আদৌ কি হবে রাশিয়া ইউক্রেন বৈঠক? ট্রাম্প যেভাবে উদ্যোগ নিয়েছিলেন এই বৈঠকের পুতিন যেন তা দায়িত্ব নিয়ে প্রায় শেষ করে দিলেন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিকঃ পুতিনের পছন্দ নয় জেলেনস্কিকে তাই এই মুহূর্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন আদৌ কি হবে রাশিয়া-ইউক্রেন বৈঠক? পুতিনের এই জেলেনস্কির প্রতি বিরুপ মনোভাব জানিয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে থাকার মাঝে এক নয়া দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পছন্দই করেন না রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাই জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতেও তাঁর অনীহা রয়েছে। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে রাজি জেলেনস্কি। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও নারাজ পুতিন।

সম্প্রতি রাশিয়া এবং কিভের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভলোদিমির জেলেনস্কিদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পরেই জানা যায়, একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে। তার পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও হবে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছিল, রাশিয়া এবং ইউক্রেন দু’দেশই দ্বিপাক্ষিক স্তরে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি। তবে এখনও পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। কবে বৈঠক হবে, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসে রাশিয়া-ইউক্রেন বৈঠকের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতে কেন অনীহা পুতিনের? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “কারণ পুতিন জেলেনস্কিকে একেবারেই পছন্দ করেন না।” ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ফের পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। অনুমান করা হচ্ছে সেই কথোপকথনে এই বৈঠকের জন্য পুতিনকে রাজি করানোর চেষ্টা হয়। তবে ট্রাম্পের কথায়, “পুতিনের সঙ্গে প্রত্যেকবার ভালোভাবে কথা হলেও, দুর্ভাগ্যের বিষয় এর পরই ইউক্রেনের কোথাও না কোথাও বোমা পড়ে। ফলে আমি অত্যন্ত রেগে যাই।”
প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলে আসা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামবে বলেই ট্রাম্প আশাবাদী। তবে বিষয়টি যে বেশ কঠিন, তাও স্বীকার করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পুতিন এবং জেলেনস্কি শেষ পর্যন্ত মুখোমুখি বসবেন কি না, তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের কথায়, “আমি জানি না ওঁরা দেখা করবেন কি না। হয়তো করবেন, হয়তো বা করবেন না।”