লড়াইটা শুরু হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানের প্রতিবাদ দিয়ে। তারপর সেই প্রতিবাদ আরও বড় আকার ধারণ করেছে। এখনও অবধি সেই প্রতিবাদের রেশ অব্যাহত। এই আন্দোলনের যিনি পুরোধা তিনি হলেন সুদান গুরুং। সন্তান হারানোর শোক নিয়েই যার লড়াই শুরু।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হামি নেপাল নামে একটি সংগঠন নেপালের প্রতিবাদী যুবকদের একত্রে আনার জন্য কাজ করছিল। সুদান গুরুং এই সংগঠনেরই প্রধান। ৩৬ বছর বয়সী সুদান গুরুং, এই মুহূর্তে যিনি নেপালের জেন-জি বিপ্লবের মুখ হয়ে উঠেছেন, তিনি নেপালি যুবকদের ক্রোধ অনুভব করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সুদান গুরুং হামি নেপালের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি। সুদান গুরুংয়ের এই সংগঠনটি একটি এনজিও বলে দাবি করেন। যদিও এর ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল, তবে এটি ২০২০ সালে নথিভুক্ত হয়।

এক সময়ে ইভেন্ট আয়োজক হিসেবে কাজ করতেন সুদান। সেই সঙ্গে চালাতেন একটি নাইটক্লাবও, তবে ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল। ওই বিপর্যয়ে তিনি তাঁর সন্তানকে হারিয়েছিলেন। এর পরেই সমাজসেবার কাজে গভীর ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। আর এই সময়েই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হামি নেপাল। সঙ্গে নিয়েছিলেন যুব সমাজকে। প্রাথমিক ভাবে, হামি নেপাল দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ প্রদানের উপরে মনোনিবেশ করেছিল। কিন্তু তারপর থেকে এটি নাগরিকদের সমর্থনের একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সামনে থেকে সমস্ত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন সুদান। হয়ে উঠেছেন সরকারের মাথা ব্যথার কারণ আর আজ তাঁর ডাকেই নেপালের বিক্ষুব্ধ জেন-জিরা পথে নেমে এককাট্টা হয়ে প্রতিবাদ করছেন।

এর আগে নেপালে লাগাতার সরকারের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ চলছিলই। এর মধ্যেই ‘হামি নেপাল’-এর সভাপতি সুদান সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন, সরকার বিরোধী প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন। পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁরা বার্তা ছিল, স্কুলের পোশাক পরে হাতে বই নিয়ে মিছিল করতে হবে। যদিও শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এর মধ্যেই ২৬টি সোশাল মিডিয়াকে নিষিদ্ধ করে কেপি ওলি সরকার। যাকে জনতার কণ্ঠরোধ হিসাবেই দেখে নেপালের ছাত্র-যুবরা। এরপরেই শুরু হয় পথে নেমে বিপ্লব। যার ফলে মঙ্গলবারই পতনের মুখে পড়ে ওলি সরকার। আর এর কারণ সেই সুদান গুরুংই, সন্তান হারানোর যন্ত্রণা প্রতি মুহূর্তে বিদ্ধ করছে যাকে।