বিএলও তালিকায় জ্বলজ্বল করছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির নাম!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিএলও তালিকায় জ্বলজ্বল করছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতির নাম। বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ ব্লকের হাসনাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রমেশ চন্দ্র দাস। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি পদেও রয়েছেন। তারপরও তাঁর নাম জ্বলজ্বল করছে বিএলও তালিকায়। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সভাপতির নাম বিএলওর তালিকায় কীভাবে থাকতে পারে, প্রশ্ন উঠেছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থাৎ রমেশ চন্দ্র দাস কী বলছেন ? রমেশবাবুর দাবি, তিনি তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি হলেও স্কুল শিক্ষক হিসেবেই তাঁর নিয়োগপত্র রয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবেই বিএলও তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়েছে। তবে এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করছেন রমেশচন্দ্র দাস।

এ বিষয়ে আইএনটিটিইউসির রাজ্য সম্পাদক কৌশিক দত্ত বলেন, রাজ্য সরকার চাইছে পুরো প্রক্রিয়াটা নির্বাচন কমিশনের গাইড লাইন মেনেই হোক। তারপরও এধরণের ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা স্পষ্ট নয়। তবে একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হয়ে তার নাম বিএলও তালিকায় থাকা উচিত নয়।

এবিষয়ে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, যেসব বুথ লেভেল অফিসাররা এই কাজে নিযুক্ত হয়েছেন তারা শাসকদলের হয়ে কাজ করছেন। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। অবিলম্বে এই ধরনের অফিসারদের নাম বাদ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে দেশজুড়ে এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী করার বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, এর মাধ্যমে ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে সংশোধন করা হবে ভোটার তালিকা। যদিও ভোটার তালিকায় কারচুপির জন্যই এসব করা হচ্ছে বলে দাবি বিরোধীদের। এই নিয়ে মোদী সরকার এবং বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠেছে। এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করার জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিএলও তালিকায়  অবাধে নাম ঢুকিয়ে যাচ্ছেন শাসক দলের নেতাকর্মীরা। এহেন পরিস্থিতিতে এসআইআর করে কি আদৌ স্বচ্ছ ভোটার তালিকা পাওয়া সম্ভব ? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।