সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কি কথা হয় তাই নিয়ে মুখিয়ে ছিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন দুজনের বেশ ভালোই আলোচনা হয়েছে। এই মুহূর্তে জল্পনা চলছে তাহলে অক্টোবরে দুই প্রেসিডেন্টের কি মুখোমুখি সাক্ষাৎ হতে চলেছে?
বেশ দীর্ঘ এক অপেক্ষার অবসান হল বলাই যায়। অবশেষে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হল চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। ঠিক কি কি বিষয়ে আলোচনা হল দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে তা নিয়ে এখনও অবধি সরকারি ভাবে না জানানো হলেও বাণিজ্যিক সংঘাত প্রশমন এবং আমেরিকাতে যাতে টিকটক চালু থাকে তার জন্য একটি চুক্তি প্রসঙ্গে তাঁদের দু’জনের কথা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও নিজে জানিয়েছেন যে, তাঁদের দুজনের মধ্যে৪ যে আলোচনা তাকে গঠনমূলক বলাই যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানালেন, তাঁরা এই ফোনালাপে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, আগামী অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় যে এশিয়া-প্যাসিফিক কোঅপারেশন সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে তাঁদের দেখা হবে বলেও পরে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, বাণিজ্য, নিষিদ্ধ ওষুধ ফেন্টানাইল এবং টিকটক সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে জিনপিঙের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনা হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন বিবাদ নিয়েও। যুদ্ধ থামিয়ে দু’দেশকে কী ভাবে আলোচনার টেবিলে আনা যায়, তা নিয়েই কথা বলেছেন দুজনে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই ট্রাম্প জানান যে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টিকটক সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলতে পারেন। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘‘ আমেরিকায় টিকটক যাতে চালু থাকে সেই প্রসঙ্গে চুক্তি চূডা়ন্ত করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে দুই দেশ’’। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জুন চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিঙের সঙ্গে শেষ বার কথা হয়েছিল ট্রাম্পের। সেই সময় পারস্পরিক শুল্ক আরোপ ঘিরে টানাপড়েন চরমে উঠেছিল দুই দেশের মধ্যে। দুই প্রেসিডেন্টের সেই ফোনালাপের পরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২৭ জুন সই হয়েছিল সেই চুক্তি। যদিও এখনও বাণিজ্যিক লেনদেন নিয়ে কিছু মতবিরোধ রয়েছে দু’দেশের। তবে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে জরিমান-সহ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও চিনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি। তখনই আরও একবার ইঙ্গিত মিলেছিল দুই দেশের মধ্যে সহযোগীতার সম্পর্কের।