শ্যাম বিশ্বাস,বসিরহাট: ইভিএমে ভোট লুঠের অভিযোগ সেই কবে থেকে তুলে আসছে বিরোধীরা। পাল্টা বিজেপিও অভিযোগ তোলে যে কংগ্রেস জিতলে কোনও অভিযোগ তোলে না। বিজেপি কংগ্রেসের এই তরজা আজকের নয়, বহু পুরনো। ভোট চুরি নিয়ে একে অপরের উপর আভিযোগে পর অভিযোগ তোলে বিজেপি ও কংগ্রেস। তবে এবার ভোটচুরির প্রতিবাদে অভিনব পন্থা নিল কংগ্রেস। গণস্বাক্ষর কর্মসূচি নেওয়া হল।

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমা স্বরূপনগর ব্লকের শাড়াপুল নির্মাণ গ্রাম পঞ্চায়েতের বসিরহাট হাকিমপুর রোডে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দেশজুড়ে বিজেপি ভোটচুরি করছে, এর প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু হয় রবিবার। এই গণস্বাক্ষর অভিযান লাগাতার চলবে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, বিজেপি ভোটচুরি করে নির্বাচনে জিতেছে। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে যে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তাতে যারা দেশ গড়ার জন্য ভোট দিয়েছেন, তারাই আজ এসআইআরের কোপে পড়েছেন। যারা প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তারাই আজ ভোটাধিকার হারাতে বসেছেন। লাগাতার প্রচার করা হবে এই বার্তা। প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও বিহার থেকে পদযাত্রা শুরু করেছেন। বাংলায় এসে বিজেপির এই ভোট চুরি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সাবধান করবেন রাহুল গান্ধী। তার আগে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করেছেন নিখিল ভারত কংগ্রেসের সদস্য অমিতাভ চক্রবর্তী, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা গ্রামীণ কংগ্রেস কমিটির সভানেত্রী ইন্দ্রানী চ্যাটার্জী সহ কংগ্রেস নেতা কর্মী- সমর্থকেরা। পথচলতি মানুষজনের পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসরত একাধিক কৃষক এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বাক্ষর গ্রহণ করেন তাঁরা। আগামীদিনে বিজেপির ভোটচুরির বার্তা সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন বলে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।
সবমিলিয়ে এইসব কর্মসূচি কি আদৌ জনমানসে দাগ কাটবে? আগামী নির্বাচনে কি আদৌ শেষের সারি থেকে সামনের সারিতে ফিরতে পারবে কংগ্রেস? সেটা হোক বা না হোক, সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা গ্রামীণ কংগ্রেস কমিটির সদস্যরা।
