মাম্পি রায়, সাংবাদিক: গোটা দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ, কোথাও দুর্গাপুজো, তো কোথাও নবরাত্রি, মা দুর্গার বিভিন্ন রূপ পূজিত হচ্ছেন দেশজুড়ে। আট থেকে আশি উৎসবের আমেজে গা ভাসাচ্ছেন সকলেই। নতুন জামাকাপড়, বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা প্রিয় মানুষজনের সঙ্গে এই বিশেষদিনগুলো আনন্দে কাটানোর জন্য মুখিয়ে থাকেন কম বেশি সকলেই। বাদ যাননি রাজনীতিকরাও। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন মহালয়া থেকেই পুজো উদ্বোধন শুরু করে দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপির কটাক্ষ উনি সনাতন ধর্মবিরোধী, সেজন্যই পিতৃপক্ষে মায়ের পুজো উদ্বোধন করেন।

তবে ওসব নিন্দা গায়ে মাখতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। ষষ্ঠীতে বোধন। তার আগেই স্বমহিমায় একের পর এক দুর্গাপুজো উদ্বোধন করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেহালা নতুন দল, বরিষা ক্লাব, আলিপুর সর্বজনীন, খিদিরপুর ৭৪ পল্লী, কোলাহল সহ একাধিক নামি পুজোর ফিতে কাটলেন মুখ্যমন্ত্রী। কি ভাবছেন, উৎসবের আমেজ বলে কি শুধু পুজো উদ্বোধনই হবে ? একেবারেই নয়। পুজো উদ্বোধনের মঞ্চকেও কীভাবে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো যায়, তা মুখ্যমন্ত্রী ভালোই জানেন।

কেন্দ্রকে নিশানা করে একের পর এক কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জিএসটি কৃতিত্ব রাজ্যেরই। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও অবদান নেই”, পুজো উদ্বোধনে গিয়ে ফের একবার মোদি সরকারকে তোপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। খিদিরপুর ২৫ পল্লির দুর্গাপুজো উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জিএসটি নিয়ে কেন্দ্র যেভাবে কৃতিত্ব নিচ্ছে, তা পুরোটাই মিথ্যা। ”চিঠি লিখে প্রথম আমি দাবি করেছিলাম বিমা থেকে জিএসটি তুলে নেওয়া উচিৎ। জিরেতে জিএসটি ছিল, হিরেতে নয়। এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের এক পয়সাও খরচ হয়নি। সব টাকা গিয়েছে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে।” প্রধানমন্ত্রীকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”কৃতিত্ব নিচ্ছে একজন, আত্মনির্ভরতার কথা বলছেন। এজন্য ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হবে।” কিন্তু এজন্য রাজ্যকে কোনও ক্ষতিপুরণ দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।

ওদিকে ত্রিপুরার গোমতী জেলার উদয়পুরে মাতা সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম পীঠস্থান মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির প্রাঙ্গন এবং নবনির্মিত ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, সচিব কিরণ গিত্যে সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। রীতি মেনে ত্রিপুরাসুন্দরী মায়ের পুজোও করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রীতি, সংস্কৃতি, আচার মেনে পুজোর মধ্যে রাজনীতিকে ব্রাত্য করে দিতে নারাজ প্রধানমন্ত্রীও। সোমবার অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরে ৫ হাজার ১০০কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই মঞ্চ থেকেই কংগ্রেসকে নিশানা করে তীব্র কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে মোদীর মন্তব্য, আগে দিল্লি থেকে যারা দেশ চালাতেন, তারা উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো ছোট জনসংখ্যার এলাকাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করতেন। ২০১৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সেই মানসিকতা ভেঙে দিয়ে ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে, প্রশাসনকে শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মন্ত্রী ও অফিসারদের উত্তর-পূর্ব সফর বাধ্যতামূলক করেছেন। মোদী বলেন, গত ১০ বছরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ৮০০-রও বেশি বার উত্তর-পূর্ব ভারত সফর করেছেন এবং তিনি নিজেও ৭০ বারের বেশি এসেছেন এই অঞ্চলে। অরুণাচলের প্রতি এই আন্তরিক দায়বদ্ধতার ফলে আজ এই রাজ্য বাস্তব উন্নয়নের স্বাদ পাচ্ছে। পরিসংখ্যান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, আগের সরকার যেখানে ১০ বছরে কেন্দ্রীয় কর বাবদ অরুণাচলকে ৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল, সেখানে এনডিএর সরকার সেই অঙ্ক ১৬ গুণ বাড়িয়ে ১ লক্ষ কোটির বেশি টাকা দিয়েছে।
সবমিলিয়ে উৎসব তো চলছেই। তার পাশাপাশি সমান্তরালভাবে চলছে রাজনীতিও এবং সেই দৌড়ে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী, কেউই পিছিয়ে নেই।