এশিয়া কাপের ফাইনালে ইতিহাস!

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: এশিয়া কাপের ইতিহাসে প্রথমবার হতে চলেছে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল। টুর্নামেন্টের ৪১ বছরের ইতিহাসে এই দৃশ্য প্রথমবার দেখা যাবে। অর্থাৎ, ৪১টা টুর্নামেন্ট এবং ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলছে ২৮ সেপ্টেম্বর। প্রথমবার ওয়াঘা পারের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৮৫ সালে, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ ক্রিকেটের ফাইনালে। যেখানে ৮ উইকেটে জিতেছিল ভারত। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষবার মুখোমুখো হয়েছিল দুই দেশ। যেখানে ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল পাকিস্তান। চলতি এশিয়া কাপে তৃতীয়বার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত পাঁচ বার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। তার মধ্যে তিনবার জিতেছে পাকিস্তান, দু’বার জিতেছে ভারত।

বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ১১ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। যদিও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাটিং খুব একটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আট উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান করে ১৩৫ রান। কিন্তু পাক বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং ১২৪ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। শাহিন আফ্রিদির ১৭ রানে ৩ উইকেট এবং হ্যারিস রউফের ৩৩ রানে ৩ উইকেট যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে।

বুধবার বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় টিম ইন্ডিয়া। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের পারফর্মান্স খুব একটা ভালো হয়নি।

কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক জাকের আলি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার জন্য ব্যাটিং লাইন আপকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, শেষ দুই ম্যাচেই আমাদের ব্যাটিং ভেঙে পড়েছে। বোলাররা ভালো করেছে, কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সেভাবে সাপোর্ট দিতে পারেনি। আর এটাই আমাদের হারের কারণ।

আগের ভিডিওতে আপনাদের দেখিয়েছি, ভারত-পাক দ্বৈরথ শুধু বাইশ গজে আর সীমাবন্ধ নেই। বাইশ গজ ছাড়িয়ে সেই দ্বৈরথ এখন আইসিসি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আর খেলা নয় বরং এশিয়া কাপকে বদলার মঞ্চ করে তুলেছেন পাক সমর্থকরা। একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাক পেসার হ্যারিস রউফের কাছে এক পাকিস্তানি সমর্থক রীতিমতো দাবি করছেন,
ভারতকে ছেড়ে কথা বলা যাবে না। বদলা নিতেই হবে। সেই ভিডিও ঘিরে অবশ্য কটাক্ষের বন্যা নেটদুনিয়ায়।

এশিয়া কাপের ফাইনাল ঠিক কতটা হাইভোল্টেজ হতে চলেছে তার কিছুটা আঁচ কিন্তু বৃহস্পতিবারই পাওয়া গিয়েছিল। কি হয়েছিল বৃহস্পতিবার একটু মনে করাই আপনাদের। বাংলাদেশকে হারিয়ে বৃহস্পতিবার এশিয়া কাপ ফাইনালে গিয়েছেন সলমন আলি আঘারা। ম্যাচ শেষে গ্যালারির দর্শকদের সঙ্গে হাত মেলাতে যান রউফ। সেই সময়েই পাক জার্সি পরে থাকা এক ব্যক্তি রউফের হাত ধরে চিৎকার করতে থাকেন এবং বলতে থাকেন “ভাই, ভারতকে একদম ছেড়ে কথা বলবেন না। ওদের হারাতেই হবে। বদলা নিতে হবে।” যদিও ভক্তের এমন অনুরোধে হাসিমুখে এড়িয়ে যান রউফ। কিছু বলেননি।

এবার আসি বাংলাদেশের কথায়। রবিবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলবে ভারত-পাকিস্তান। প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ কাকে সাপোর্ট করবে। ২০২৪ সালে হাসিনা সরকার পতনের পরে ভারতের সঙ্গে বেশ সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। ততই একদা শত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য ক্রমেই বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। সেই নতুন বন্ধুত্বের আরও এক নজির দেখা গিয়েছে ক্রমাগত পাক উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের বাংলাদেশ সফরের মধ্যে দিয়ে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কেরও অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। এমনকি দুই দেশের মধ্যে তর্ক যুদ্ধও দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানকে সমর্থন করে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ অতীতেও দেখা গিয়েছে ভারত-পাক ম্যাচে অধিকাংশ বাংলাদেশি পাকিস্তানকে সমর্থন করেছেন। বাংলাদেশ কাকে সমর্থন করবে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের সমর্থকদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা ভারতীরা শুধু একটা বিষয় জানি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুটি দেশই ভারতের প্রতিবেশি। প্রতিবেশীর সঙ্গে আমরা সৌজন্যতা বজায় রাখতে জানি। কিন্তু খেলার মাঠে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নই। অর্থাৎ তুমি নবরূপে এসো প্রাণে। তিরঙ্গা আর মানচিত্রের সন্ধিক্ষণে ৷