সুপ্রিয় বসাক, নিজস্ব প্রতিনিধি: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় যেভাবে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নজরদারি চালানো হয়, ঠিক সেই ধাঁচেই পুজোর আবহেও চালানো হচ্ছে নজরদারি। পুজোয় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারি চালাচ্ছেন মোরাঘাট রেঞ্জের বনকর্মীরা। করিডোর গুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে পুজো মন্ডপগুলির সামনে দিয়েও প্রতি মূহুর্তে পেট্রোলিং চালানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

মূলত মোরাঘাট জঙ্গলের গোসাইহাট,খূট্টিমারি, সোনাখালি ও তোতাপাড়া বিটের জঙ্গলে প্রায় ৫৫ টি হাতির দল রয়েছে। এর মধ্যে কখনও দল বেঁধে, আবার কখনও দলছুট হয়ে লোকালয়ে ঢুকে তান্ডব চালাচ্ছে হাতির দল। একইসঙ্গে মোরাঘাটের জঙ্গল লাগোয়া চা বাগানেও চিতাবাঘের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এর মধ্যে হলদিবাড়ি ও মোরাঘাট চা বাগানে চিতাবাঘের শাবকও দেখা গিয়েছে। পরে অবশ্য চা বাগানের শুষ্ক নালা থেকে শাবকগুলিকে অন্যত্র নিয়ে গিয়েছে মা চিতাটি। এর থেকেই বনকর্মীদের অনুমান, পরিস্থিতি আরও ঘোরতর হয়েছে। যা নিয়ে পুজোর দিনগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করে নজরদারি চলছে।

জানা গিয়েছে, খূট্টিমারি ও গোসাইহাট বনবস্তি এলাকায় চারটি জায়গায় দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানেও পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে কথা বলে বনকর্মীদের পেট্রোলিং বাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুজোর কটাদিন সবসময় নজরদারি চালাবেন তাঁরা। পুজোর আগে ফের বন দফতরের আধিকারিকরা পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে আলোচনা করবে। সোনাখালির জয়েন্ট ফরেষ্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য শ্যামল রায় জানান, সোনাখালি জঙ্গল থেকে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে বেরিয়ে কালাখাম্বা, মল্লিকশোভা সহ আশপাশের এলাকায় তান্ডব চালায়। তবে পুজোর মুখে বন্যপ্রাণীর হানা রুখতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। নজরদারি বাড়লে বনবস্তি এলাকার বাসিন্দারা নিশ্চিন্তে ঘর ছেড়ে মন্ডপে গিয়ে পুজো উপভোগ করতে পারবেন। খুকলুং বনবস্তির বাসিন্দা তথা ঝাড় আলতা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান রবি রাভার কথায়, এর আগে পুজোর দর্শনার্থীদের জন্য কখনও এমন উদ্যোগ নেয়নি বনদফতর। এবারে এমন উদ্যোগ নিলে একজন বনবস্তিবাসী হিসেবে তাদের স্যালুট জানাবো। আর বনকর্মীদের সঙ্গেও সুনিশ্চিত নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করবো।

বনাঞ্চল লাগোয়া একাধিক জায়গায় এই নজরদারি চালানো হলে অনেকটাই সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মোরাঘাট রেঞ্জার চন্দন ভট্টাচার্য বললেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কায়দায় দর্শনার্থীদের জন্যেও বনকর্মীরা করিডোরগুলিতে নজরদারি চালাবে। মোরাঘাট জঙ্গলে চিতাবাঘ ও হাতির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।মূলত গোধূলি বেলা থেকে রাত পর্যন্ত এই টহলদারি এবং করিডোরগুলিতে বনকর্মী মোতায়েন করা হবে। যার ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণী সংঘাত আটকানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তোতাপাড়ার পুজো এবং বাকি পুজোগুলি নিয়ে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি জেএফএসসি সদস্যদেরও সতর্ক করা হয়েছে।