বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব প্রতিনিধি: মা আমি চিপস চুরি করিনি গো। কাতর কণ্ঠে একথা বলেও কাজ হয়নি। অবশেষে এই নোট লিখে আত্মহত্যা করেছিল ক্লাস সেভেনের ছাত্র। চলতি বছরের মে মাসে পাঁশকুড়ায় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল। দোকানদারের দেওয়া মিথ্যা চুরির অপবাদ এবং প্রকাশ্য রাস্তায় চুরির অপবাদ দিয়ে কান ধরে ওঠবোস মেনে নিতে পারেনি নাবালক ছাত্রটি। মন খারাপ করেই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে ক্লাস সেভেনের ওই পড়ুয়া।

একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল নদিয়ার তেহট্টে। তেহট্ট দত্তপাড়ার নাবালক বিট্টু হালদার, বয়স মাত্র ১১ বছর। পাড়ার এক বাসিন্দার টাকা চুরি করেছে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। ওই পাড়ার এক ব্যক্তি নাবালক বিট্টু হালদারের সাইকেল আটকে রেখে বাড়ি থেকে ২০০ টাকা নিয়ে আসতে বলে, বিট্টু হালদার বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বলে এবং সে বলে আমি টাকা চুরি করিনি। পরিবারের লোকজন বিট্টু কে অনেক জিজ্ঞাসা করার পরেও সে স্বীকার করেনি টাকা চুরি করেছে বরং তার পরিবারের লোকজন টাকা দিয়ে সাইকেলটিকে আনতে চাইলে, বিট্টু বলে না, কেউ টাকা দিতে যাবে না, তাহলে লোকে আমাকে চোর অপবাদ দেবে। এর পর সপ্তমীর সন্ধের দিকে চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দেয় সে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছে বিট্টু। পুজোর মধ্যে মাত্র ২০০ টাকা চুরির অপবাদে বাড়ির খুদে সদস্যটিকে হারিয়ে ফেলতে হল, যেন বিশ্বাস হচ্ছে না পরিবারের সদস্যদের। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবার পরিজনরা।

এই ঘটনাই যেন ৪ মাস আগের চিপস চুরির অপবাদে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আত্মঘাতী হয়েছিল পাঁশকুড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু দাস। অভিযোগ ওঠে, সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দুকে চিপস প্যাকেট চুরির অপবাদ দেয় স্থানীয় এক দোকানদার। বাজারে চিপস কিনতে গিয়েছিল সে। কৃষ্ণেন্দুর পরিবারের অভিযোগ, যে দোকানে কৃষ্ণেন্দু গিয়েছিল সেদিন সেই দোকানে চিপস ছিল না। এমনকি দোকানদারকে বার বার ডেকেও সাড়া পায়নি কৃষ্ণেন্দু। দোকানের বাইরেই চিপসের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখে কৃষ্ণেন্দু সেই প্যাকেট কুড়িয়ে নেয়। বাড়ি ফেরার সময় সেই দোকানের মালিক শুভঙ্কর দীক্ষিত, পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার মোটর বাইক নিয়ে ধাওয়া করে কৃষ্ণেন্দুকে পাকড়াও করে এবং চুরির অপবাদ দেয়। সর্বসমক্ষে বাজার এলাকায় কান ধরে ওঠবস করায়, ভাইরাল করে দেয় সেই ভিডিও। মারধরও করা হয়। কৃষ্ণেন্দুর্ বাবা-মার অভিযোগ, সেইসময় কৃষ্ণেন্দু চিপসের দামও শুভঙ্করকে দিয়েছিল। ঘটনার কথা শুনে কৃষ্ণেন্দুকে শাসন করেন তার মা এবং তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনে। অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছিল কৃষ্ণেন্দু। তেহট্টে বিট্টু হালদারের আত্মহত্যার ঘটনা যেন ৪মাস আগের সেই ঘটনাই আরও একবার উস্কে দিল।