মাম্পি রায়, সাংবাদিক: পাকিস্তানের বালোচিস্তানের কোয়েটায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। সেনার সদর দফতরের কাছে মঙ্গলবার বিস্ফোরণ হয়। পাকস্তানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কোয়েটায় জারগুন রোডে পাক সেনার ফ্রন্টিয়ার কোর এফসির সদর দফতরের কাছে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে অন্তত ৩২জন জখম হয়েছেন। বিস্ফোরণ এতটাই জোরালো ছিল যে, আশপাশের বাড়িগুলিতে ফাটল ধরেছে।বিস্ফোরণের আগে গুলিও চালানো হয়েছে বলে শব্দ মিলেছে। এলাকাটি যথেষ্ট সংবেদনশীল। কোনও আত্মঘাতী বিস্ফোরণ নাকি গাড়িবোমা ছিল, তা খতিয়ে দেখা বচ্ছে। পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। কোনও জঙ্গি হামলা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ মহম্মদ বালোচ জানাচ্ছেন, একটি বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক মডেল টাউন থেকে হালি রোডের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি যখন এফসি হেডকোয়ার্টারের কাছে পৌঁছয় তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।
বালোচিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখ্ত মুহম্মদ কাকর জানিয়েছেন, অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই বিস্ফোরণে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন ঘটনাস্থলে মারা গিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন বাকি পাঁচ জন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। ফ্রন্টিয়ার কোরের দুই সদস্যও জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

বিস্ফোরণের সিসিটিভি ফুটেজ ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে একটি ব্যস্ত রাস্তায় যান চলাচল হচ্ছে। সেখানেই হঠাৎ বিস্ফোরণ। আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে একাধিক গাড়ি।
মাত্র একদিন আগে পাকিস্তানকে শান্তির প্রতীক বর্ণনা করতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় বলেছেন, কাশ্মীর এবং অপারেশন সিঁদুর বিভ্রান্তিকর। তাঁর আরও দাবি ভারত-পাক সংঘাতে বিরাট জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ভারতের ৭টি ফাইটার জেট নাকি ধ্বংস করেছে পাক বাহিনী। কয়েকদিন আগে নিজেদের মাটিতেই তালিবানি সন্ত্রাসীদের খতম করতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল পাকিস্তান। যে পাকিস্তান গোটা বিশ্বে সন্ত্রাসের জনক হিসেবে ফুটে উঠেছে, এবার নিজেদের দেশেও বিস্ফোরণ করতে ছাড়ছে না। আর কতটা নির্লজ্জ হলে পাকিস্তান হওয়া যায়?