বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফিরলে দায়ী থাকবে ইউনুস : রাশেদ খান

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: গণ-অভ্যুথান ও ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছিল। তারপর বাংলাদেশের দায়িত্ব যায় অন্তবর্তী সরকারের হাতে। ৮ অগাস্ট অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব নেন মহম্মদ ইউনুস। এরপর বাংলাদেশের সামগ্রিক ঘটনা প্রবাহ প্রত্যেকে আমরা কমবেশি জানি। সেদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, অচলাবস্থা সবকিছু। তারই মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র জন্ম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক করে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫আত্মপ্রকাশ করে দলটি। এনসিপি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ছাত্র-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল।

তারপর আমরা দেখি আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ হয় বাংলাদেশে। ১০ মে ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে মামলা চলছে সেই মামলার রায় না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানানো হয়।কিন্তু এ ঘটনা একেবারেই নতুন ছিল না। কারণ, প্রায় সাত দশকের ইতিহাসে কমপক্ষে সাতবার নানা ভাবে নিষিদ্ধ, দমন বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে আওয়ামী লীগকে।


এরই মধ্যে এবার আওয়ামী লীগ নিয়ে সরব হলেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রাশেদ খান। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নির্মূল না করে পুনর্বাসন করেছে। সরকারের দুর্বলতায় আওয়ামী লীগের সঙ্গী-সমর্থক রয়েছে তাদের সাহস বাড়ছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগের কমবেশি মিছিল দেখা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে যদি আবারও আওয়ামী লীগ ফিরে আসে তাহলে দায়ী থাকবেন ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ। আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশের মাঠে-ময়দানের রাজনীতিতে পুনরায় ফিরে আসে তাহলে কেউ ছাড় পাবে না, বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থির করতে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সংগঠন কাজ করছে। এভাবে দেশকে অস্থির করার নানান ধরনের চক্রান্ত সৃষ্টি হবে দেশে। গণ অভ্যুস্থানে আওয়ামী লীগ ও তাঁর সঙ্গীদের আমরা যেভাবে প্রতিহত করেছি ঠিক একইভাবে, এখন বাংলাদেশে তাঁদের রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রতিহত করা হবে। অন্যথায় বাংলাদেশে আবারও আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফিরবে। জাতীয় পার্টির মত ফ্যাসিবাদ ফিরবে। এবং হয়তো আগামীতে আরও একটা গণহত্যা দেখবে দেশ।

কিন্তু এটা ভুললে চলবে না, প্রায় সাত দশকের ইতিহাসে কমপক্ষে সাতবার নানা ভাবে নিষিদ্ধ, দমন বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এই দলটিকে। তবু, প্রতি বারই কোনও না কোনও ভাবে ফিরে এসেছে তারা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে হিংসা, রাজনৈতিক বিভাজন ও সেনা হস্তক্ষেপের জেরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় বাংলাদেশে। নির্বাচন বাতিল, সংসদ বিলুপ্ত, দলের অফিসে তালা। শেখ হাসিনা বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারতে রয়েছেন। দলীয় নেতাদের কেউ গ্রেফতার, কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে এবারও কি ফেরার পথ খুলবে আওয়ামী লীগের? না কি এ বার ইতিহাস নতুন কিছু লেখার দিকে এগোচ্ছে? যদিও তার উত্তর দেবে সময়। তবে ইতিহাস বলছে, আওয়ামী লিগের অস্তিত্ব সঙ্কট নতুন নয়, প্রত্যাবর্তনের শক্তিও এই দলটির অঙ্গ।