অতীত মিথিলা, সুস্মিতায় মজেছেন সৃজিত

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: সুস্মিতায় মজেছেন সৃজিত। গোটা পুজোই সুস্মিতার হাত ধরেই কাটালেন পরিচালক। বেশ অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে সৃজিত ও তার স্ত্রী মিথিলার মধ্যে দূরত্বের গুঞ্জন। তাহলে কি পুজোর আবহে সুস্মিতার সঙ্গে প্রেমের খবরে শিলমোহর দিয়েই দিলেন সৃজিত।

সেলেব্রিটি লাইফস্টাইলের অন্যতম একটা অংশ হল গসিপ আর তার ওপর যদি সেই সেলেব্রিটি হয় পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মত এক ব্যক্তি যিনি নাকি অটোগ্রাফ বাইশে শ্রাবণ রাজকাহিনী হেমলক সোসাইটির মত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তখন তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তো মানুষের উৎসাহ থাকবেই। গোটা পুজোয় যেভাবে কাছের বন্ধু তকমা দেওয়া সুস্মিতার সঙ্গে ঘুরলেন সৃজিত তাতে করে কিন্তু মনেই হচ্ছে সৃজিতের জীবনে এবার সুস্মিতার অটোগ্রাফ লেখা হতে চলেছে।

২০২৩ সাল নাগাদ শেষ বারের মতো দেখা গিয়েছিল সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও তার স্ত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলাকে। তার পর থেকে একাধিক বার তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা গিয়েছে। মেয়েকে আয়রাকে নিয়ে বাংলাদেশেই আছেন অভিনেত্রী। মিথিলা কিছুদিন আগেই পিএইচডি শেষ করেছেন। সেই সময় সৃজিত তাকে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়েছিলেন।কিন্তু স্ত্রী কিংবা তাঁর মেয়ের সঙ্গে গত দেড় বছরে কোনও ছবি দেননি। সেখান থেকেই জল্পনার সূত্রপাত। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের কানাঘুষো, মিথিলার সঙ্গে সে ভাবে কোনও যোগাযোগ নেই তাঁর। তবে বিবাহবিচ্ছেদও নাকি হয়নি। এ দিকে প্রায় গোটা পুজোই সুস্মিতার সঙ্গে ঘুরতে দেখা গিয়েছে সৃজিতকে।

মিথিলা নাকি ভিসা পাচ্ছেন না আর তাই বাংলাদেশ থেকে তিনি আসতে পারছেন না কিন্তু সৃজিত বা সুস্মিতার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল কিন্তু বলছে একেবারে অন্য কথা। সৃজিত নায়িকা সুস্মিতাকে স্রেফ বান্ধবী হিসেবে পরিচয় দিলেও সর্বত্রই কিন্তু শোনা যাচ্ছে তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন। সিনেমার প্রিমিয়ার থেকে পুজোর আড্ডা, পুজো উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান-সব জায়গায় একসঙ্গেই দেখা যাচ্ছে তাঁদের।

পুজোতে যেমন এক সঙ্গে তারা ঘুরেছেন আবার রীতিমত ম্যাচিং করে পোশাকও পরেছেন। সপ্তমীর শুভেচ্ছা জানাতে সুস্মিতার সঙ্গে যে ছবি পোস্ট করেছেন সৃজিত তাতে দেখা যাচ্ছে কোনো এক বাড়ির পুজোয় তোলা হয়েছে সেই ফোটো। সৃজিতের গায়ে নীল রঙের পাঞ্জাবি আর সুস্মিতাও পরেছেন নীল রঙের শাড়ি সঙ্গে বেইজ রঙের ব্লাউজ। তিনটি ছবির একটিতে তাঁদের একে-অপরের দিকে যাকে বলে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেল। মুখে দুজনেরই লাজুক হাসি। আরেকটি ছবিতে আবার সৃজিতকে দেখা গেল সুস্মিতার ছবি তুলে দিতে। ছবির মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রেম কিন্তু বেশ স্পষ্ট

ঠিক কিভাবে কাছাকাছি এলেন সৃজিত সুস্মিতা? সৃজিতের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির শুটিংয়ের জন্য একসঙ্গে পুরীতে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন সৃজিত ও সুস্মিতা। তখন পরিচালকের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন সুস্মিতা। ছবিতে সমুদ্রের ধারে বেশ মিষ্টি মুহূর্তে দেখা যায় দু’জনকে। ছবির মতো ক্যাপশনও ছিল বেশ রঙিন। সুস্মিতা লিখেছেন, ‘স্যার আঁখো পর’। স্যার বলতে এখানে সৃজিতকেই বুঝিয়েছেন অভিনেত্রী। এই ছবি এবং ক্যাপশন দেওয়ার পর থেকেই টলিপাড়ায় কানাঘুষো শুরু হয়েছে, পরিচালক ও নায়িকা নাকি চুটিয়ে প্রেম করছেন! এমনকী এও শোনা যাচ্ছে, দু’জনে পুরীতে একান্ত সময়ও কাটিয়েছেন।

অনেকেই বলছেন সৃজিতের স্ত্রী মিথিলা ভিসার সমস্যায় আটকে পড়েছেন সেটা মানা গেল কিন্তু সৃজিত বা মিথিলার মধ্যে যোগাযোগের আভাস টুকু তো পাওয়া যাচ্ছেনা বরং সুস্মিতার সঙ্গেই ব্যস্ত সৃজিত। সুস্মিতা বলেছেন তারা দু’জনে খুব ভাল বন্ধু, কয়েকদিনের মধ্যে সৃজিতের খুব কাছের বন্ধু হয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে একি শুধুই বন্ধুত্ব? নাকি এই বন্ধুত্ব বদলাবে সাতজন্মের পরিচয়ে? তা জানাবে অদূর ভবিষ্যতই।