অঙ্কিতা পাল, সাংবাদিক: বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এবং অভিষেক বচ্চন। ঐশ্বর্য রায়ের সর্বশেষ ছবি ছিল মণি রত্নমের পোন্নিয়িন সেলভান ২। তবে নতুন কোনও প্রজেক্টের কথা এখনও ঘোষণা করেননি তিনি। অভিষেক বচ্চনকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল কালীধর লাপাতা চলচিত্রে। পরবর্তীকালে শাহরুখ খান এবং সুহানার সঙ্গে সিদ্ধার্থ আনন্দের কিং ছবিতে অভিনয় করবেন বলে জানা গিয়েছে। এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন বচ্চন দম্পতি। অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এ.আই.দিয়ে তাদের বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর ডিপফেক ভিডিয়ো তৈরি করা হচ্ছে। তারই বিরুদ্ধে এই দম্পতি এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

এই বলিউড দম্পতি ইউটিউব এবং তার মূল সংস্থা গুগলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন । অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউটিউবে এমন অনেক ভিডিয়ো রয়েছে, যেখানে AI ব্যবহার করে তাঁদের ছবি, কণ্ঠস্বরকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব ভিডিয়োতে ‘যৌন উস্কানিমূলক’ এবং ‘সম্পূর্ণ কাল্পনিক’ দৃশ্য দেখানো হয়েছে। যা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারকেও লঙ্ঘন করছে। এসব কনটেন্ট তাদের সুনামে আঘাত হানছে।

আদালতে জমা দেওয়া উক্ত মামলায় উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একটি ভিডিয়োতে অভিষেক বচ্চনকে এক অভিনেত্রীকে চুম্বন করতে দেখা যাচ্ছে, অন্য একটিতে ঐশ্বর্য রাই বচ্চন ও সলমন খানকে একসঙ্গে ডিনারে বসে থাকতে দেখানো হয়েছে—যা সম্পূর্ণ ভুয়ো একটি ভিডিও। এআই দ্বারা নির্মিত। অভিষেক ও ঐশ্বর্য তাঁদের পিটিশনে জানিয়েছেন, যদি এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট AI মডেলকে প্রশিক্ষিত করতে ব্যবহার করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে আরও ক্ষতিকর তথ্য ছড়াতে পারে। এই মামলার প্রেক্ষিতে গুগলের আইনজীবীকে আগামী ১৫ জানুয়ারি, পরবর্তী শুনানির আগে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। যদিও এই প্রসঙ্গে এখনও ইউটিউব বা গুগলের তরফ থেকে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ডিপ ফেক ভিডিও শেয়ার ও প্রচারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন দম্পতি।