ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: কানাডার একটি সিনেমা হলে অগ্নিসংযোগ ও গুলি চালানোর ঘটনার পর থেকে বেশ কয়েকটি ভারতীয় ছবির প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু কেন?
কানাডায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে কানাডার ওন্টারিওর একটি সিনেমা হলে দুটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অগ্নিসংযোগ ও গুলি চালানো হয় ওই সিনেমা হলে। এই ঘটনার পরই বেশ কয়েকটি ভারতীয় সিনেমার পরিদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কানাডায়। ওকভিলের Film.ca র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমার প্রদর্শনী রুখতেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ঋষভ শেট্টি ও কল্যাণ দের প্রযোজিত সিনেমা আ লেজেন্ড চ্যাপ্টার ১ ও দে কল হিম ওজি – এই সিনেমা দুটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

২৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৫ টা নাগাদ প্রথম হামলা ঘটানো হয়েছিল কানাডার ওই থিয়েটারে। দুজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। দুটি দাহ্য পদার্থের ক্যান নিয়ে তারা থিয়েটারের বাইরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই ভিডিও রেকর্ড মিলেছে সিসিটিভি ফুটেজে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে যে, রাত ২টার দিকে একটি ধূসর রঙের SUV গাড়িটি থিয়েটারের সামনে আসে। হুডি পরা একজন ব্যক্তি থিয়েটারের প্রবেশপথটি ঘুরে গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছেন। একই SUV গাড়িটি আবার দুবার পার্কিং লটে ফিরে আসে। ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি সাদা SUV গাড়ি প্রবেশ করে সেখানে। কিছুক্ষণ পরে ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, দুজন ব্যক্তি থিয়েটারের দরজায় এসে লাল জেরিক্যান থেকে তরল ঢেলে দিচ্ছে। তারপর তারা একটি দেশলাই জ্বালিয়ে মাটিতে ছুঁড়ে মারে। তবে আগুন লাগালেও পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার ফলে থিয়োরের সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে খবর।

দ্বিতীয় হামলাটি ঘটেছে ঠিক এক সপ্তাহ পরে ২ অক্টোবর। একজন ব্যক্তি রাত ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সিনেমা হলের সামনে এসে এক রাউন্ড গুলি চালায়। তবে এখনও পুর্নাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। কি কারণে গুলি চালানো হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই এলাকার খলিস্তানি চরমপন্থীরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এই দুটি পৃথক ঘটনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমাগুলির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমাগুলির প্রদর্শন বন্ধ করার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীদের একাংশ। তবে এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় বলেও জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সিনেমা হলের সামনে ৭ দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক হামলার ঘটনা চিন্তায় ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। এলাকাবাসীরা ভয়ে থাকলেও তাদেরকে স্বাভাবিক ছন্দে আনার চেষ্টা করছে প্রশাসন।