বিশ্বজিত নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের মহিষামারি বাগু মোড় সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় ভাঙন। জল নিকাশ শুলিস গেটের পাশে নদী বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের বেশ কিছুটা অংশ ভেঙে যাওয়ার ফলে নোনা জল এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রতি বছরই বিভিন্ন সময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকুলবর্তী বেশ কিছু জায়গায় চাষের জমিতেও জল ঢুকে যায়।

ভাঙনের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে যান সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এবং সেচ দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মন্ত্রী ও বিডিও ভাঙন কবলিত এলাকাগুলি ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলার পর মন্ত্রী দ্রুত নদীবাঁধ মেরামতির আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যত শীঘ্র সম্ভব যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
এর পাশাপাশি, মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা এবং বিডিও কানাইয়া কুমার রাও গঙ্গাসাগরের ১ নম্বর স্নানঘাটও পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি সমুদ্রের প্রভাবে সেই ঘাটটির বেশ কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ মেরামতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্নানঘাটটিরও দ্রুত সংস্কার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে আগামীতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে। প্রশাসনের আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

কিন্তু এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে হবে, তা সকলেরই অজানা। প্রতিবছরই দক্ষিণের উপকূলবর্তী এলাকায় নিম্নচাপের জেরে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নদী বাঁধে ভাঙন, নোনাজল কৃষি জমিতে ঢুকে যাওয়ার মতো সমস্যা একেবারেই নতুন নয় সুন্দরবনবাসীর কাছে। প্রত্যেকবারেই অস্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ করা হয় কিন্তু তাও বেশিদিন টেকে না। এই সমস্যার থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তাও অজানা সুন্দরবনবাসীদের।