ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: প্রবল বর্ষণের জেরে বিধ্বস্ত মিরিকের দুধিয়া। মৃতের সংখ্যা অন্তত ৩২। আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা অসংখ্য। মিরিক থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথ বালাসন নদীর উপরে থাকা দুধিয়া ব্রিজটিও ভেঙে পড়েছে। ফলে ব্যহত সাধারণ জনজীবন। রাস্তায় আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে সোমবার উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার দুধিয়ায় পৌঁছে সেখানে ভেঙে পড়া সেতু ১৫ দিনের মধ্যে তৈরি করে দেওয়ার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে আধিকারিকদের সঙ্গে এই সেতু মেরামতি নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ মাস সময় লাগবে এই সেতু মেরামতি করতে। কিন্তু পরে স্থির হয় যে ১৫ দিনের মধ্যে এই সেতু মেরামতির কাজ সম্পন্ন করবে প্রশাসন।

এদিন দুধিয়া থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে তাদের পাশে থাকবে সরকার। তাদের বাড়ি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য কমিউনিটি কিচেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে খাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। এছাড়াও যাদের আধার কার্ড, রেশন কার্ড সহ বিভিন্ন নথি নষ্ট হয়েছে তাদের সেই নথি পুণরায় তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর জন্য বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন, শুধু মিরিক নয়, ক্ষতিগ্রস্থ সমস্ত জায়গায় এই ক্যাম্পগুলি চালাতে হবে। উত্তরবঙ্গের এই দুর্যোগে মৃত পরিবারের পাশে থাকার জন্য আগেই আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুধিয়ায় গিয়ে ১৬ জন মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখান থেকে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, সেতু ভেঙে গেলে বা বাড়ি ভেঙে গেলে মেরামত করে দেওয়া যাবে। কিন্তু যে মানুষটা চলে গিয়েছেন তার জায়গা পূরণ করা সম্ভব নয়। আমরাও সমানভাবে মর্মাহত। এরই পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের একজনের জন্য স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সকলকে শান্ত থাকার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেউ উস্কানি দিলে তাতে পা না দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

এরই পাশাপাশি গতকাল আহত হওয়া খগেন মুর্মুর সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজও নেন তিনি।