জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: আপনি কি শ্রেয়া ঘোষালের ভক্ত। শ্রেয়ার গান শুনলে আপনারও কি মনের জানালা খোলে যখন-তখন। শ্রেয়ার গানে কি আপনার ভোর হয়। কিংবা পাহাড়ি নদীর মতো প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে ওঠে আপনার মন। মনের মধ্যে কি প্রজাপতি ডানা ঝাপটায়। কখনও কি গুনগুন করে গেয়ে উঠতে ইচ্ছা করে জিনে লাগা হুঁ। না কি আনমনা বিকেলে উদাসী মন বলে ওঠে তুম কেয়া মিলে।

বিভিন্ন ভাষায় ত্রিশ হাজারের বেশি গান গাওয়া বাঙালি কন্যে সম্প্রতি বেশ চর্চায়। কেন তিনি চর্চায় আসুন ধীরে ধীরে সেদিকে নজর রাখা যাক। আমি-আপনি প্রত্যেকেই জানি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে মহিলাদের বিশ্বকাপ। এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ভারত-শ্রীলঙ্কা। ১২ বছর পর ভারতের মাটিতে হচ্ছে এই মেগা টুর্নামেন্ট। দেশের মোট চারটি স্টেডিয়াম ও শ্রীলঙ্কার একটি স্টেডিয়ামে খেলাগুলি হবে। ভারতের গুয়াহাটি ছাড়াও ইনদওর, বিশাখাপত্তনম ও নবি মুম্বইয়ে খেলা হবে। পাকিস্তান অবশ্য তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় গুয়াহাটিতে। আর সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই চমক। লাল টেম্পল পাড়ের সাদা শাড়িতে জরির মোটিফ করা। কানে ঝুমকো। হাতে বালা। না, এই সাজে কোনও পুজো মন্ডপে অঞ্জলি দিতে যাননি শ্রেয়া। এই সাজেই বিশ্বকাপের মঞ্চে গান গাইলেন শ্রেয়া ঘোষাল। অসমের বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে মহিলা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই সাজেই জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন বঙ্গ কন্যা। তাঁর গলায় জাতীয় সঙ্গীত শুনে গ্যালারিতে উপস্থিত সবার গায়েই কাঁটা দিয়েছিল। এবারের মহিলা বিশ্বকাপের থিম সং- ‘ব্রিং ইট হোম’ গেয়েছেন শ্রেয়া।
এটা তো ছিল শ্রেয়ার মাঠের চমক। কিন্তু এর থেকেও বড় চমক অপেক্ষা করছিল হরমনপ্রীতদের জন্য ড্রেসিং রুমে। আর সেই চমকটা দিলেন শ্রেয়া নিজেই। বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচ ছিল শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। আর সেই ম্যাচ শুরুর আগেই রিচাদের সাজঘরে যান শ্রেয়া। বাদামি ট্র্যাক সুটে শ্রেয়াকে সামনে থেকে দেখে হকচকিয়ে যান হরমনপ্রীতরা। কথায় কথায় জানতে পারেন অধিকাংশ ভারতীয় প্লেয়ারই তাঁর অন্ধ ভক্ত। প্রত্যকে ক্রিকেটারের সঙ্গে হাত মেলান তিনি। পিউ বোলে গানটি হরমনপ্রীতদের জন্য সেখানে গেয়ে শোনান শ্রেয়া। ক্রিকেটার সঙ্গে দেখা করে , কথা বলে শ্রেয়া নিজেও এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে, প্রথমবার গান শুরুর পরে থামতে হয়েছিল তাঁকে। তবে শুধু পিউ বোলে গান নয়। আরও বেশ কয়েকটি গান কিন্তু হরমনপ্রীতদের সাজঘরে গেয়েছেন শ্রেয়া। শ্রেয়ার গানে তাল দিতে দেখা যায়, উপস্থিত ক্রিকেটার এবং টিম মেম্বারদের। শ্রেয়াকে কাছে পেয়ে স্বাভাবিকভাবে বদলে গিয়েছিল ভারতীয় ড্রেসিং রুমের ছবি। বেশ চাজর্ড আপ দেখাচ্ছিল স্মৃতি মন্ধানা, রাধা যাদবদের। ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিয়ে শ্রেয়া বলেন, দেশ তোমাদের জন্য প্রার্থনা করছে। আমিও তোমাদের জন্য প্রার্থনা করছি। সব ভাল হবে। হৃদস্পন্দন বলে, এবার কাপটা ঘরে আনো।

মহিলা বিশ্বকাপের ১৩তম সংস্করণ। এই টুর্নামেন্টে ৮টি দল অংশগ্রহণ করছে। যার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান। মহিলা ক্রিকেট টিম হিসাবে সবচেয়ে সফল অস্ট্রেলিয়া। তাঁরা সাতবার বিশ্বকাপ জিতেছে। মাত্র তিনবার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড চারবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নিউজিল্যান্ড একবার বিশ্বকাপ জিতেছে। ভারত দুইবার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ একবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি জিততে ব্যর্থ হয়েছে।
মহিলাদের বিশ্বকাপে একেবারে শুরু থেকেই যুক্ত রয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে চলবে মহিলাদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট। প্রথম সেমিফাইনাল ২৯ অক্টোবর, দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ৩০ অক্টোবর। ফাইনাল হবে ২ নভেম্বর। কিন্তু পাকিস্তান যদি ফাইনালে ওঠে সেক্ষেত্রে খেলা হবে কলম্বোতে। আর এবারে মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটে টিকিট নিয়ে একটা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আইসিসি-র তরফ। ভারতের যে সমস্ত মাঠে বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে অর্থাৎ গুয়াহাটি, ইনদওর, বিশাখাপত্তনম ও নবি মুম্বই যেখানে খেলা হোক না কেন, টিকিটের সর্বনিম্ন দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। টিকিটের দাম এত কম রাখার কারণ, মাঠে বেশি করে দর্শক টানা। এমনিতে এখন মেয়েদের ম্যাচে মাঠে ভালই দর্শক হয় বিশেষ করে ভারতের মাঠে। ফলে ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা চাইছে, বিশ্বকাপের ম্যাচে যাতে একটি আসনও ফাঁকা না থাকে। আর সেই কারণে টিকিটের দাম কম রাখা হয়েছে।