সোমবার ফের উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

নাজিয়া রহমান,  নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের বৃষ্টি বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সোমবার তিনি উত্তরবঙ্গে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের রাস্তাঘাট মেরামতির কাজ কতটা এগিয়েছে তা খতিয়ে দেখতে  উত্তরবঙ্গে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং থেকেই কাজের নজরদারি করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

আগামী সোমবার ফের উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিনের অতিভারী বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গ। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাগরাকাটা ও মিরিক এই দুই জায়গা। উত্তরবঙ্গের এই বন্যা পরিস্থিতিতে সেখানে  গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেখানে গিয়ে দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই অতিভারী বৃষ্টিতে  উত্তরবঙ্গের রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো দ্রুত তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৫ দিনের মধ্যে অস্থায়ী রাস্তা ও সেতু তৈরির কথাও বলা হয়েছে। সেইমতো কাজও শুরু হয়েছে। নির্দেশমতো কাজ কতটা এগিয়েছে তা খতিয়ে দেখতে ফের  উত্তরবঙ্গে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং থেকেই কাজের নজরদারি করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মিরিকের। তাই মিরিকের রাস্তা এখনও ঠিক না হওয়ায়, সেখানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে দার্জিলিংয়ে বসেই পরিস্থিতির পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্দেশ অনুযায়ী কাজ কতটা এগিয়েছে, কীভাবে কাজ করা সম্ভব হবে, সবটাই নজরদারি করবেন তিনি। এই বিপর্যয়ের সময় নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যারা দূর্গতদেরর সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে যেমন দমকলকর্মী, এসডিআরএফ, পুলিশ, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, নার্স তাঁদের সকলকে সম্মানিত করা হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। কারণ এই চরম বিপদের মধ্যেও তাঁরা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করেছেন, নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন তা কুর্নিশ জানানোর মতোই।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে নবান্নের প্রেস কর্নারে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় প্রায় ঘন্টা খানেক সময় কাটানোর ফাঁকে উত্তরবঙ্গের বন্যা বিপর্যয়ের জন্য কেন্দ্রেকে আরও একবার কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর অভিযোগ তিস্তা, তোর্সা জলঢাকার মত নদীতে পরপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথে বাধা তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান যে, গঙ্গা ভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণের মত প্রকল্প কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকায় কোন কাজই হয়নি। মাইথন পাঞ্চেতে ড্রেজিং না করার জন্য সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত জল ছাড়ায় রাজ্য ভেসে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। আগামী ১১ অক্টোবর ঘেরাও করা হবে মাইথন। এরপর পাঞ্চেতও ঘেরাও করবে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকেরা।