মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পের দায়িত্ব পেল নামকরা নির্মাণ সংস্থা Larsen & Toubro (L&T)
বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : এক ধাপ এগিয়ে গেল গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণ প্রকল্প। মুড়িগঙ্গা নদীর উপর বহু প্রতীক্ষিত এই সেতু তৈরির জন্য অবশেষে নতুন টেন্ডার প্রকাশ এবং তার সফল নিষ্পত্তি হল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের এই প্রকল্পের দায়িত্ব পেল বিশ্বের অন্যতম নামকরা নির্মাণ সংস্থা Larsen & Toubro (L&T)। এর ফলে সেতুটি তৈরি হওয়া নিয়ে সাগরদ্বীপে বসবাসকারী মানুষদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সাগরদ্বীপের বাসিন্দারা মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। রাজ্য বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সেতু তৈরির ঘোষণা করে প্রাথমিকভাবে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। তবে এর আগে পর্যাপ্ত অংশগ্রহণকারী না থাকায় টেন্ডার বাতিল হয়ে গিয়েছিল বহুবার। যা নিয়ে বিরোধীরা প্রচার শুরু করে দিয়েছিল, গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণ হবে না। কিন্তু সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার নতুন করে প্রকাশিত টেন্ডারেই কাজের অনুমোদন দেওয়া হল। প্রাথমিকভাবে এই সেতুর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, কাকদ্বীপের লট নম্বর আট থেকে কচুবেড়িয়া পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৪ কিলোমিটার এই সেতুর নির্মাণ কাজ চার বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে।

ইতিমধ্যেই মুড়িগঙ্গা নদীতে সেতুর জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার L&T-এর মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থার টেন্ডার পাওয়ায় দ্বীপবাসীর মনে খুশি ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাদের আশা, দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং আগামী চার বছরের মধ্যেই তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হবে।

নতুন করে টেন্ডার হওয়ার পর সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, “টেন্ডার বাতিল হওয়ার পর বিজেপি এবং সিপিএম বিভিন্ন জায়গায় গঙ্গাসাগর সেতু হবে না বলে প্রচার করেছিল। আবার নতুন করে টেন্ডার হল। যারা মিথ্যা প্রচার করছিল, তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে। আগামী ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাদের যোগ্য জবাব দেবে মানুষ।”
নতুন করে টেন্ডার নিষ্পত্তি হওয়ায় গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণে যে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ছিল, তা কাটল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দ্রুততার সঙ্গে L&T কাজ শুরু করলে, কয়েকবছরের মধ্যেই সাগরদ্বীপের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছেন অনেকেই।