মালদার ইংরেজবাজারে প্রত্যন্ত গ্রামেই মিলছে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা। ৫৬০টি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলছে চিকিৎসা
বিশ্বজিৎ মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা: ছোট থেকে বড় সমস্ত রকম চিকিৎসার সমাধান হচ্ছে পাড়াতেই। ছুটতে হচ্ছে না শহরের নামিদামি হাসপাতালে। প্রত্যন্ত গ্রামেই মিলছে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা। গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা পাচ্ছেন রোগীরা। আধুনিক প্রযুক্তি পদ্ধতি ব্যবহার করে চিকিৎসার পরে বিভিন্ন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা প্রেসক্রাইব করা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। টেলিমেডিসিন পদ্ধতি অর্থাৎ ভিডিও কল, ফোন কল ও পোর্টালের মাধ্যমে রোগীর সমস্যাগুলো নথিভুক্ত করে রোগীদের ওষুধ নির্ধারিত করে দিচ্ছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাই দূরে অন্য কোথাও গিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ছে না। পাড়ার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে সুস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

মালদা জেলার ৫৬০ টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশাপাশি ইংরেজবাজার ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে গ্রামবাসীদের। সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমিউনিটি হেলথ অফিসার অরুণিমা রায় জানান, “রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যপরীক্ষা, টিকাদান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ, মাদকাসক্তি ও অন্যান্য আসক্তিজনিত সমস্যা ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। শুধু তাই নয়, জটিলতম একাধিক রোগের ক্ষেত্রে টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ করে তোলা হচ্ছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।”

এই বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ সুদীপ্ত ভাদুড়ী জানান, “জেলায় মোট ৫৯০ টি মধ্যে ৫৬০ টি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাম গুলোতে চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে অনেক সময় অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় গ্রামবাসীদের। তাই সাব সেন্টার গুলোকে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিণত করে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রাম এবং পাড়ায়।”
প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। আগে জটিল রোগে ভুগতে থাকা বাসিন্দাদের সঠিক চিকিৎসা হত না গ্রামে। গ্রামের রাস্তা পেরিয়ে, কলকাতায় আনার ঝুঁকিও নিতে পারতেন না তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সাবসেন্টারগুলিতে সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিণত করে অনেকাংশে উপকৃত হয়েছেন গ্রামবাসীরা।
চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে এমন আধুনিক পদ্ধতি গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে বলে অনেকে মনে করছেন। স্বাস্থ্য পরিষেবার সময় বিভিন্ন সময় অনিহা তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মনে। তাদেরকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে এই অন্যন্য উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এমনটাই মনে করছেন অনেকে।