অভিযুক্ত ৫ জনের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ
ঋক পুরকায়স্থ, নিজস্ব সংবাদদাতা: আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছিল গোটা দেশজুড়ে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও প্রতিবাদ করেছিলেন বহু মানুষ। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। আরজিকরের নির্যাতিতার মৃত্যু হয়েছে, সুবিচার পাননি তাঁর মা-বাবা।

আরজিকরের মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। জানা যাচ্ছে নির্যাতিতা ডাক্তারি পড়ুয়া ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে ঘুরতে যান তিনি। দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের বাইরের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন তাঁরা। তখন পাঁচজন ছেলে এসে ওই তরুণীকে তুলে জঙ্গলে নিয়ে যায়। ওই জঙ্গলের ভিতরেই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের অভিযোগ, যখন ডাক্তারি পড়ুয়াকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তখন তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ওই বন্ধু ওই জায়গায় আবার এলে ওই তরুণীকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তারপর তাকে উদ্ধার করে নিটকবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন ওই বন্ধু।
ঘটনার পর থেকেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। নির্যাতিতা তরুণীর পরিবার জানিয়েছেন, ওই পাঁচ জন যুবককে চিনতেন না ওই তরুণী। দুর্গাপুরে একাধিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন বেসরকারি কলেজ রয়েছে। ওইসব বেসরকারি কলেজের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দুর্গাপুরের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন যে, এইধরণের ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। এই প্রথম এমন কোনও ঘটনা ঘটল। খবর পাওয়া মাত্রই শনিবার সকালে ওড়িশার জলেশ্বর থেকে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা পৌঁছেছেন দুর্গাপুরে। তবে এই ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। তবে পড়ুয়ার ওই সহপাঠীর সেই মুহুর্তের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যখন ঘটনা ঘটে তখন ওই সহপাঠী কী করছিলেন ? কেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেন তিনি? কেনই বা ওই তরুণীকে নিয়ে রাতের বেলায় ওই নির্জন রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনা এখন কোনদিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার।
এদিকে ঘটনায় তৎপর হয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। নির্যাতিতার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলতে চান মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা।