সেহওয়াগ-আরতির ২১ বছরের দাম্পত্যে ভাঙন!

সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অন্যকে আনফলো করলেন

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: ভারতীয় ক্রিকেট দুনিয়ায় বীরেন্দ্র সেহওয়াগ এক বিশিষ্ট স্তম্ভের নাম। ভারতীয় ক্রিকেটে তার অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। একদিকে ক্রিকেট কেরিয়ার অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবন দুটোই ভীষণ ভালোভাবে সামলেছেন বীরু। দীর্ঘ ২১ বছরের দাম্পত্য জীবন তাদের, যথেষ্ট বর্ণময় সেই অধ্যায়, লাভ ম্যারেজ ছিল তাদের, একসঙ্গে তিন এবং আরতি হাত ধরে পেরিয়েছেন কত ওঠানামা খারাপ ভালো সময়। ২০০৪ সালে প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলির বাড়িতে শেহওয়াগ-আরতির বিয়ে হয়। নয়াদিল্লির এক পাঁচ তারা হোটেলে জমকালো বিয়ের আয়োজন করেছিলেন বীরু-আরতি। বিরু যখন ৭ বছরের ছিলেন এবং আরতি তখন ৫ বছরের। তারা ছোট থেকে একে অপরের পরিচিত। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে আরতি বীরেন্দ্রর আত্মীয়ের মেয়ে এবং সম্পর্কে তারা একপ্রকার ভাই-বোন। সেহওয়াগ এবং আরতি তিন বছর ধরে একে অপরকে ডেট করার পরে গাঁটছড়া বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুই ছেলেও রয়েছে তাদের, যাদের নাম আর্যবীর আর বেদান্ত।

সবই তো ভালো ভাবে চলছিল কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে ঘূনপোকা বাসা বাধলে সেই সম্পর্ক অচিরেই শেষ হয়ে যায়। বীরেন্দ্রদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর দীপাবলির সময় শেহবাগের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও এই দূরত্বের ইঙ্গিত মিলেছিল। তিনি তাঁর মা এবং দুই ছেলে আর্যবীর ও বেদান্তের সঙ্গে ছবি দিলেও, আরতি তাতে অনুপস্থিত ছিলেন, যা ভক্তদের নজর এড়ায়নি এরপর মাস কয়েক আগে ইনস্টাগ্রামে একে অন্যকে আনফলো করেন বীরেন্দ্র আরতি আর তখন থেকেই জল্পনা শুরু। এই মুহূর্তে জানা যাচ্ছে তারা দুজনে নাকি আলাদা আলাদা থাকছেন। ডিভোর্সের পথে নাকি হাঁটছেন তারা। আর এর কারণ হিসাবে উঠে আসছে পরকীয়া, উঠে আসছে অন্য এক ব্যক্তির নাম যার জন্যই নাকি ২১ বছরের দাম্পত্যে ভাঙন ধরেছে।
জানা যাচ্ছে আরতির সঙ্গে নাকি অ্যাফেয়ার চলছে বিসিসিআইয়ের নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট মিঠুন মানহাসের! এই খবরেই ঝড় উঠেছে নেটদুনিয়ায়। না সেলেব্রিটিদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়া ডিভোর্সের পর অন্য কাউকে বিয়ে করা নতুন কিছু না কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টা এক হয়েও এক নয় কারণ আরতি যার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে জল্পনা চলছে তিনি আর কেউ নন, বীরেন্দ্রর খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিঠুন

গত আগস্ট মাসে রজার বিনি পদত্যাগ করার পর, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ প্রাক্তন ক্রিকেটার মিঠুন মানহাস আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব নেন। এর পরপরই এই গুঞ্জন আরও তীব্র হয়। জল্পনাকে আরও উসকে দেন ক্রীড়া সাংবাদিক অভিষেক ত্রিপাঠী। ৭ অক্টোবর, ২০২৫-এ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। তিনি ২০০৯ সালের দীনেশ কার্তিক-মুরলী বিজয় বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে ইঙ্গিতে বোঝাতে চান যে ক্রিকেটের দুনিয়ায় আরও একবার এমন ঘটনা ঘটতে চলেছে। তাঁর এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ।

বহুদিন ধরেই বীরেন্দ্র এবং মিঠুন একে অন্যকে চেনেন, তার জন্মদিনে শূভেচ্ছাও জানাও বীরু সেই পোস্ট শেয়ার করে মোহিত সহায় লিখেছেন যদি কেউ কারোর ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করে সেটা সবচেয়ে খারাপ অনুভূতি যদি মিঠুন মানহাস এবং বীরেন্দ্র শেহওয়াগের স্ত্রীর সম্পর্কে খবর সত্য হয়, তাহলে এটি কেবল একটি কেলেঙ্কারি নয়। এটি একটি গভীর ব্যক্তিগত বিশ্বাসঘাতকতা। শেহওয়াগ এবং মিঠুনের মধ্যে দীর্ঘ বন্ধুত্ব, বহু বছরের আস্থা এবং মাঠে এবং বাইরে তাদের বিহু স্মৃতি লজ্জাজনকভাবে সেই বন্ধন ভেঙে যেতে দেখা সত্যিই হৃদয়বিদারক। খ্যাতি এবং ক্ষমতা মানুষকে সবকিছু দিতে পারে, কিন্তু তারা আনুগত্য বা চরিত্র কিনতে পারে না। কিছু ক্ষত শত্রুদের কাছ থেকে আসে না – এগুলি সেই বন্ধুদের কাছ থেকে আসে যাদের আপনি একসময় পরিবার বলে ডাকতেন।
এখনও অবধি বীরু ও তার বউ প্রকাশ্যে কিছু না বললেও কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে৪ ডিভোর্স অবধি ভেবেই ফেলছেন তারা, পিছিয়ে আসার রাস্তা নেই।