‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ ভুয়ো’

“আমি হিন্দু, তাই আমায় রক্ষা করুন। এটা বলবেন না। বলুন, আমি এই দেশের নাগরিক, তাই আমার সুরক্ষা দিন”, বললেন মহম্মদ ইউনুস।

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেবেন না। এ ত বড় কথা। নিজে কোন ধর্মে বিশ্বাস করি এটা বলব না সকলের সামনে ? এ আবার কেমন কথা ইউনুস সাহেব। আপনার শাসনকালে কি নিজের ধর্ম পরিচয়ও ভুলে যেতে হবে। এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো না ড. ইউনুস। ভারতের মিডিয়া ভুয়ো খবর করায় পারদর্শী। পাদ্মাপারে নাকি কোনও সংখ্যালঘু অত্যাচারই হয়নি। একেবারে নিশ্চিন্তে বসবাস করছেন ওপারের মোহন, অখিল, সুভাষরা। একটা পরিসংখ্যান বলি বা তুলে ধরি আপনাদের সামনে তাহলে বুঝতে পারবেন কে ঠিক আর কে ভুল। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব করলে খাতায় কলমে হয় ৩৩০ দিন। আর এই ৩৩০ দিনে বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর ২,৪৪২টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই যে তথ্য আপনারদের সামনে তুলে ধরলাম সেটা কিন্তু কোনও ভারতীয় মিডিয়া এই হিসাব তুলে ধরেনি। এই হিসাব দিচ্ছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। আরও একবার সংখ্যাটা বলছি যদি আপনি বুঝতে ভুল করে থাকেন তার জন্য। ৩৩০ দিনে বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর ২,৪৪২টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাহলে ইউনুস সাহেব… আচ্ছা, তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম ভারতীয় মিডিয়া ভুল খবর তুলে ধরে আপনার দেশ সম্পর্কে। তাহলে তো এটা মেনে নিন, আপনার দেশের সাংবাদমাধ্যম ভুল নয়। তারা অনন্ত সঠিক খবর তুলে ধরেছে, যে ওপার বাংলায় নিরাপদ নয় সংখ্যালঘুরা।

সম্প্রতি মহম্মদ ইউনুসের একটি সাক্ষাতকার ভাইরাল হয়েছে। ওই সাক্ষাতকারে সঞ্চালক মেহেদি হাসান মহম্মদ ইউনূসকে একাধিক প্রশ্ন করেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম হল-
নভেম্বরে হিন্দুদের উপরে আক্রমণের প্রতিবাদে যেভাবে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়েছিল বাংলাদেশে, সেটা কীভাবে সামলেছিলেন তিনি ? উত্তরে ইউনুস বলেন- এগুলো সব ভুয়ো খবর। আপনি ভুয়ো খবর দ্বারা পরিচালিত হতে পারেন না। ভারতের বিশেষত্ব হল ভুয়ো খবর। গুচ্ছ গুচ্ছ ভুয়ো খবর। তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় হিসাবে না দেখে , নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে দেখুন।
সঞ্চালক মেহেদি হাসানের পরবর্তী প্রশ্ন ছিল- তবে কি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের কোনও ঘটনা ঘটেনি ? এই প্রশ্নের উত্তরে ইউনুস বলেন- আমি ওই সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে দেখা করব। তাদের বলব আমি হিন্দু, তাই আমায় রক্ষা করুন। এটা বলবেন না। সবসময় বলুন, আমি এই দেশের নাগরিক, তাই আমার অধিকারের সুরক্ষা দিন।

তবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানাচ্ছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে- ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। অর্থাৎ হাসিনা সরকার পতনের ঠিক একদিন আগে থেকেই। আর ওই ১৬ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে ২ হাজার ১০টি সংখ্যালঘু আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। আর ২১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৩২টি সংখ্যালঘু হিংসার ঘটনা ঘটেছে। আর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ২৫৮টি সংখ্যালঘু আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ওপার বাংলায়। আর হিংসার শিকার হয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীরা।

আরও একটা অভিযোগ রয়েছে ইউনুসের বিরুদ্ধে। সেদেশে সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়ে নানান সরকারি কাজ হচ্ছে। এমনকি সংস্কারের কাজও নাকি সংখ্যালঘু ছাড়া। সংখ্যালঘুরা কার্যত বাংলাদেশে ব্রাত্য। অথচ ইউনুস বলছেন, আমি যখন ওই সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে দেখা করব, তখন আমার বার্তা থাকবে, কখনওই বলবেন না আমি হিন্দু, আমি খ্রিষ্টান বা আমি বৌদ্ধ। আমায় রক্ষা করুন। বলুন, আমি এই দেশের নাগরিক, তাই আমার অধিকারের সুরক্ষা দিন। তাতে আরও সুরক্ষা পাবেন। ইউনুসের কথার ঠিক কতটা বাস্তব প্রতিফলন হয় তার উত্তর তো দেবে সময়।