ভারতে কি বন্ধ হতে চলেছে ইউটিউব?

মারাত্মক চিন্তায় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। কারণ তাদের উপার্জনের একটা বড় জায়গা এই ইউটিউব।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: আত্মনির্ভর ভারত কি আসলে সমস্যার কারণ হয়ে উঠবে? কী হতে চলেছে ইউটিউবের ভবিষ্যত?

এই প্রশ্নগুলিই এখন চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদের মনে। ইউটিউব এই মুহূর্তে আমাদের দিনরাতের সঙ্গী। যেখানে খবর থেকে শুরু করে গান, খেলার হাইলাইটস বা লাইভ টেলিকাস্ট থেকে শুরু করে সিনেমা কি না দেখা যায়? অর্থাৎ ঘরে বসে সারা দুনিয়ায় কী ঘটছে, তা আজ সহজেই জানতে পারে যায় ইউটিউবের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি একটা বড় সংখ্যক মানুষ এই ইউটিউব দ্বারা উপার্জন করেন। সেই তালিকায় যেমন একগুচ্ছ সেলেব্রিটি রয়েছেন। তেমনই রয়েছেন আমার আপনার মত সাধারণ মানুষ। যাদের কারোর রান্নার চ্যানেল, কারোর কবিতার চ্যানেল, কারোর ট্রাভেল ভ্লগ, কারোর পডকাস্ট, তো কারোর আবার কমেডি, রোস্টিং সহ আরও অনেক কিছু। চ্যানেল মানিটাইজড হয়ে গেলেই বিজ্ঞাপন আসতে শুরু করে এবং তার থেকেই উপার্জন হয় এর পাশাপাশি ব্র্যান্ড প্রোমোশোনেরও সুযোগ ছিল এতদিন।

তবে এই মুহূর্তের অন্যতম বড় আশঙ্কা এবং জল্পনা ভারতে কি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে ইউটিউব? আর জন্য কি দায়ী হতে চলেছে আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনা?  যদি ইউটিউব আর না থাকে সেক্ষেত্রে এতগুলো মানুষের ভবিষ্যত কি হবে, তা নিয়েও তো উঠছে প্রশ্ন।

কিন্তু ইউটিউব যদি বন্ধ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তার বিকল্প কি হবে? এর আগে বেশ কিছু অ্যাপ তো এসেছিল। কিন্তু তারা ইউটিউবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতেই পারেনি। যেমন পাবলিক অ্যাপ কিন্তু দর্শক সেইভাবে তাকে গ্রহণ করেনি। ফলে ইউটিউব থেকে গেছে তার রাজ সিংহাসনেই। পাবলিক অ্যাপ ইউটিউবের জায়গা দখল তো দূর, ইউটিউবের সমানও হয়ে উঠতে পারেনি। মানুষ ভালোবেসেছেন গুগল প্রোডাক্ট ইউটিউবকেই। টিকটকের মতো অ্যাপও চেষ্টা করেছিল ইউটিউবের জায়গা নেওয়ার। কিন্তু প্রতিযোগিতায় থাকতে পারেনি সেও। এই পাবলিক অ্যাপও ইন্ডিয়া বেস অ্যাপ হিসাবেই আত্মপ্রকাশ করেছিল কিন্তু ইউটিউবের যা গ্লোবাল রেঞ্জ ছিল, তার ধারে কাছে যায়নি পাবলিক।

এই যে জল্পনা চলছে ইউটিউবকে কেন্দ্র করে, তার জন্য অন্যতম দায়ী কে জানেন? এই চিন্তার জন্য দায়ী হচ্ছে এক সংস্থা যার নাম জোহো। যে নাকি শুধু ইউটিউবই নয়, সিলিকন ভ্যালির একাধিক বড় বড় সংস্থার বুকের ধুকপুকুনি বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় এই সংস্থা জোহো। কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছিলেন এবার থেকে তিনি বিদেশি সংস্থার প্রেজেন্টেশনের বদলে জোহোতেই প্রেজেন্টেশন তৈরিকে সমর্থন করবেন। আর তারপর জোহো একের পর এক নতুন অ্যাপ সামনে নিয়ে আসছে। এবং তখন থেকেই জোহো একের পর এক নতুন অ্যাপ সামনে নিয়ে আসছে।  আর জোহোর হাত ধরেই আসছে  অ্যাটোপ্লে এবং মনে করা হচ্ছে এই নয়া অ্যাপই নাকি ইউটিউবের জায়গা দখল করতে চলেছে। ইতিমধ্যেই এই নয়া অ্যাপ লঞ্চিং, অ্যাপ ফিচারস ইত্যাদি নিয়ে সংস্থা বিভিন্নরকম এক্সপেরিমেন্ট করছে। তবে এটাও যেহেতু ইন্ডিয়ান অ্যাপ তাই তার রেঞ্জ কতটা বিস্তৃত হবে তা নিয়ে জিজ্ঞাসা থেকে যাচ্ছে এবং তার থেকেও বড় কথা এই অ্যাপ মানিটাইজেশনের ক্ষেত্রে কি কি সুবিধা দেবে তা স্পষ্ট নয় ফলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এই মুহূর্তে অনিশ্চয়তার অন্ধকারেই।