দুর্গাপুরে গণধর্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

দুর্গাপুরের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রীর কথাকে অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে দাবি তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের।

সত্যজিৎ চক্রবর্তী, সুভাষ দাস, বিশ্বজিৎ দেবনাথ, ছোটন সেনগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘মেয়েরা অত রাতে বাইরে বেরোয় কেন?’ রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্যের পর বিকালেই প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন তার মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার তারই দলের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারও বললেন দলনেত্রী কখনই এমন কোনও কথা বলেননি।

সোমবার বারাসাতে একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটা বলেননি। কারোর মুখে কথা বসাতে নেই। স্বচ্ছ সাংবাদিকতা করা উচিত। ডোন্ট মেক দ্য নিউজ। সংবাদ তৈরি করে পরিবেশন করা উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রী কখনই সেভাবে বলেননি। তাছাড়া আমরা আমাদের কারো ওই ধরনের মানসিকতা নেই। এটা সংবাদমাধ্যম বিকৃত প্রচার করেছে।“

বিজেপি রাজ্য সরকারের অপরাজিতা বিলের বিরোধিতা করে আগেই নারী বিরুদ্ধ ইমেজের পরিচয় দিয়েছে। তারা দুর্গাপুরের ঘটনা নিয়ে কিছু না বললেই ভালো, বলছেন নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা।

নদিয়ায় বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান শেষে দুর্গাপুরে রাজ্যপালের যাওয়া প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। তৃণমূল নেতা বলেন  ” বলুন বিজেপির রাজ্যপাল গিয়েছিলেন দুর্গাপুরে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কতটা আমরা জানি না। উনি বিজেপি প্রেরণিত মানুষ। তাই উনি বিজেপির সুবিধার্থেই সব জায়গায় চলে যান। ওনাকে রাজ্যপাল মেনে নেওয়াটাই কঠিন। শুভেন্দু অধিকারী এমন একজন বিরোধী দলনেতা যে কিনা পশ্চিমবঙ্গ কে সর্বদা গালমন্দ করতে ভালোবাসে। শুভেন্দু যে গাছের ফল খায় সে গাছের তলায় দাঁড়িয়েই প্রস্রাব করে। এরকম মানসিকতার লোক শুভেন্দু অধিকারী।”

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে মুখ খুললেন আরজি করের নিহত চিকিৎসক ছাত্রীর পরিবার। রাজ‍্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই মন্তব্য তালিবানি ‘ফতোয়া’র সামিল বলেই মনে করছেন আরজি করের নির্যাতিতা ছাত্রীর বাবা। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে ক্ষোভে  ফেটে পড়লেন আরজিকরের নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা। তিনি বলেন, “উনি একজন নির্লজ্জ মুখ্যমন্ত্রী। মহিলা হয়ে মহিলাদের সম্পর্কে এই ধরণের কথা বলা খুবই দুঃখজনক। পারলে উনি ফতোয়া জারি করে দিন, যাতে মেয়েরা ঘরের বাইরে বেরতে না পারে। তালিবানরা যেমন ফতোয়া জারি করে, উনিও তাদের মতো ফতোয়া জারি করে দিন। তাহলে মেয়েরা ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। ঘরেই থাকবে। ঘরেই তারা কাজকর্ম করবে। বাইরে কোনও কাজে অংশ নেবে না। মেয়েদের পড়াশোনা শেখার আর দরকার নেই। বাড়িতেই যা কাজ করার করবে। হয় উনি তালিবানের মতো ফতোয়া জারি করুন। নয়তো মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করুন। ওঁর প্রশাসন চালানোর দক্ষতায় নেই। সেই কারণেই উনি এই সমস্ত আজেবাজে কথা বলছেন।”

মেয়েদের রাতে বেরনো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে ঝাঁঝালো প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং সৌগত রায়ের কথা শুনে মনে হচ্ছে এরা ২০২৪-২৫ সালের লোক নয়। এরা বামফ্রন্ট আমলের লোক।

বিজেপিকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন আমরা চাই ধর্ষক বিল পাশ হোক। ধর্ষকের সাজা হোক। ওরা যদি চাইতেন, তবে কেন্দ্র থেকে বিলটাকে পাস করাতো। বিজেপি শাসিত রাজ্যে যেভাবে মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়, নগ্ন করে ঘোরানো হয়,  সেটা ওরা করাতো না। ওদের একজন মন্ত্রী আছে। যে খুব নারী বিদ্বেষী। আমরা মহিলাদের সুরক্ষিত রাখতে চাই।  আমরা চাই যে দোষী সে শাস্তি পাক।

এদিকে তদন্তের স্বার্থে দুর্গাপুরের নির্যাতিতা ছাত্রীর সহপাঠীকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একে একে অভিযুক্তদের এবং সহপাঠীকে নিয়ে এসে তদন্ত চলছে। উপস্থিত থাকছেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তাও।