আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়লেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট

২০২৪-এর অগাস্টে দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইভাবে জেন জির আন্দোলনের জেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রো।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: বাংলাদেশ, নেপালের পর আফ্রিকার মাদাগাস্কার। জেন জি বিক্ষোভের তীব্রতা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা দেখল গোটা বিশ্ববাসী। জেন জির আন্দোলনের জেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রো।

এবার হাসিনার মতোই একই পরিণতি হল মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্টের। জেন জি বিক্ষোভের জেরে দেশ ছেড়ে পালালেন দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রে রাজোয়েলিনা।

একটি সাক্ষাৎকারে মাদাগাস্কারের বিরোধী নেতা সিতেনি র‍্যান্ড্রিয়ানা সোলোনিয়াইকো জানিয়েছেন, “সোমবার গোপনে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রে। আমরা প্রেসিডেন্টের দফতরের কর্মীদের থেকে নিশ্চিতভাবে জেনেছি তিনি দেশ ছেড়েছেন।” এদিকে ফরাসি সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, মাদাগাস্কারের সঙ্গে ফ্রান্সের সমঝোতার ভিত্তিতে ফরাসি সামরিক বিমানে করে অ্যান্ড্রেকে তাঁর দেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জেন জিকে সন্তুষ্ট করতে প্রায় দশ দিন আগে মাদাগাস্কারের প্রধানমন্ত্রী-সহ গোটা মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রে। তাতেও বরফ গলেনি, তাই এবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন তিনি।

মাদাগাস্কারে বিক্ষোভ অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৫ সেপ্টেম্বর। বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংকটের জেরে প্রতিবাদে নেমেছিলেন মাদাগাস্কারের রাজধানী আন্তানানারিভোর বাসিন্দাদের একাংশ। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল যুব সমাজের মনে। এবার সেই ক্ষোভ খুব কম সময়ের মধ্যে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল দেশজুড়ে। জেন জি-র নেতৃত্ব আন্দেলন শুরু হল। প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান এনৎসে এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ ধনকুবের মায়মি রাভাতোমাঙ্গার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা।  পরিস্থিতি সামাল দিতে অক্টোবরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী-সহ গোটা মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন রাষ্ট্রপতি। তাতেও বিশেষ কাজ হয়নি। অ্যান্ড্রের বিরোধিতা করে দেশের সেনাবাহিনীও।

২০২৪-এর অগাস্টে বাংলাদেশে যুব সমাজের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর, দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি আশ্রয় নেন ভারত সরকারের কাছে। হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর ভিডিও আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে।

কয়েকদিন আগে আমরা দেখেছি, বেকারত্ব, সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেপাল। কয়েকজন আন্দোলনকারীর মৃত্যুর পর আন্দোলন এতটাই ঝাঁঝালো হয়ে উঠেছিল যে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন কেপি শর্মা ওলি। নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা দাবি করেন তিনি। পরবর্তীকালে তাঁকে উত্তর কাঠমান্ডুর শিবাপুরি ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে খবর। ৯দিন সেখান হেফাজতে থাকার পর তিনি ব্যক্তিগত বাড়িতে গিয়েছেন বলে নেপাল সেনাবাহিনী সূত্রে খবর।