তিন ঘণ্টায় শিশু চুরির ঘটনার কিনারা!

তিন ঘণ্টায় বড়সড় সাফল্য পেল বর্ধমান থানার পুলিশ। গ্রেফতার অভিযুক্ত দুই মহিলা। ধৃতরা সম্পর্কে মা ও মেয়ে।

কৌশিক চক্রবর্তী, নিজস্ব সংবাদদাতা:  বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৮ দিনের শিশু চুরির ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। তিন ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে এল অভিযুক্ত দুই মহিলা। অভিযুক্তদের বুধবার বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করে বর্ধমান থানার পুলিশ। শিশুটিকে উদ্ধার করে মা ও বাবার কাছে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরফে। অভিযুক্ত দুজন বর্ধমানের কেষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু চুরির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ১৮ দিনের এক শিশুপুত্রকে হাসপাতাল চত্বর থেকে চুরি করে পালানোর অভিযোগ ওঠে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার বিরুদ্ধে। আউটডোরের শিশু বিভাগে শিশুটিকে দেখাতে মঙ্গলবার মা সেলেফা খাতুন তার ১৮ দিনের শিশুপুত্রকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তার মা হামিদা বিবি। শিশুটির বাবা সুজল সেখ তখন ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন। সেলেফার নিজেরও চেকআপ করার কথা ছিল, চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় চেক-আপ হয়নি। এরপর প্রসূতি বিভাগের বহির্বিভাগের বারান্দায় সেলেফা খাতুন ও তার মা শিশুটিকে নিয়ে বসে ছিলেন। সেই সময়ই এক হলুদ রঙের চুড়িদার পরিহিতা মহিলা তাঁদের কাছে এসে শিশুটিকে আদর করতে থাকেন, কোলেও নেন। হামিদা বিবির অভিযোগ,  কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই মহিলা শিশুটিকে কোলে নিয়েই সেখান থেকে উধাও হয়ে যান।

বিষয়টি টের পেয়ে হামিদা বিবি তড়িঘড়ি জামাই সুজল সেখকে ফোন করে জানান। সুজল সেখ সঙ্গে সঙ্গে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এদের বাড়ি বীরভূমের কীর্ণাহারের বলরামপুরে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে  হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগীর আত্মীয় সুরজ সাহানা বলেন, “এভাবে ভিড়ের মধ্যে থেকে শিশু চুরি যাওয়াটা সত্যিই উদ্বেগজনক। নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন”। ঘটনায় নতুন করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

খবর পেয়ে হাসপাতালে যান ডিএসপি (হেডকোয়ার্টার) দেবাশীষ চক্রবর্তী ও বর্ধমান থানার আইসি দিব্যেন্দু দাস। তদন্তে নেমে মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যেই সাফল্য লাভ করে পুলিশ। পুলিশ সুপার সায়ক দাস জানান, “কেষ্টপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।  অভিযুক্ত দুইজন সম্পর্কে মা ও মেয়ে। অভিযুক্তরা হল মনিরা বিবি(৪০), রুমকি খাতুন (২০)। এই দুইজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে তিন ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। আপাতত শিশুটি সুস্থ রয়েছে। তবে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে”।

 শিশুর বাবা সুজল শেখ জানিয়েছেন, “আমাদের সন্তানকে মঙ্গলবার রাত্রি দশটা নাগাদ ফিরে পেয়েছি। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা খুবই খুশি, ভীষণ আনন্দিত। যেখান থেকে চুরি হয়েছিল সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা খারাপ ছিল। বাইরে সিসিটিভি থেকে দেখেই অভিযুক্ত মহিলাকে চিনতে পারি”।

পুলিশের তৎপরতায় মায়ের কোলে ফিরেছে ১৮ দিনের শিশু।