“এক বছরে বাংলাদেশে ৬৩৭ জনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে”

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: ইউনুসের বাংলাদেশের এ কী হাল? “এক বছরে বাংলাদেশে ৬৩৭জনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে”- রিপোর্ট দিল কানাডার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্র্যাটিক গর্ভন্যান্স।

বলছে রাজনীতি, চলছে রাগনীতি। ধ্বংস হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। সন্মানী, শিক্ষিত-মার্জিত, সমাজে অবদান রাখা মানুষকে সন্মান না দিয়ে বা কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে হিংসাত্মক মনোভাব দেখায় যারা তারা অকৃতজ্ঞ, তারা হিংসুটে, তারা অমানবিক। আর তাদের ঠিক কি পরিনতি হয় সেটি তো সকলের জানা। কাউকে ছোট করে অসম্মান করে, নিজে বড় হতে চাইলে সেটাকে বেইমানি বলে। ইতিহাস কি বলে জানেন, ইতিহাস বলে, সকল রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী, রাষ্ট্র বা সমাজ ধ্বংস হয়েছে নিজেদের মাঝের কোনো না কোনও মীরজাফরদের ভুমিকায়। কে মীরজাফর, কে ধ্বংস হয়েছে বা কে ধ্বংসের পথে সব জানাব আপনাদের। আপনাদের থেকে কিছু আমি লুকাবো না। লুকাতে চাইও না। প্রমিজ…..

একেবারে রাখঢাক না করে প্রথমেই বলি, বেইমানিই মনে হয় বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান একটি চাবিকাঠি। বর্তমান জামানায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশি পরিলক্ষিত হয় হিংসা, প্রতিহিংসা, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, হানাহানি, মারামারি। ক্ষমতা বা চেয়ার পাওয়ার আশায় অনৈতিক অন্যায় অমানবিক কাজে এখন বেশি যুক্ত সেদেশের মানুষ। মুখে নানান নীতিকথার বুলি, তবে অন্তরে অন্তরে অন্য কথা বহিয়া বেড়ায়। প্রশ্ন হচ্ছে এই গুলি ছাড়া কি কোনও রাজনৈতিক দল পরিচালিত হতে পারে না ? প্রশ্নটা রাখলাম আপনাদের কাছে।

সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫। হিসাব বলছে অন্তবর্তী সরকারের ১৩ মাস ওপার বাংলায়। হাসিনা সরকারের পতনের পরে এখন ইউনুসের বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় পদ্মাপাড়ে। টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণের অভিভাবক হওয়ার গুরুভার এসে পড়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের কাঁধে। শান্তিতে নোবেল জয়ী ইউনুস স্যোশ্যাল বিজনেস বা সামাজিক ব্যবসা তত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। সেই সুবাদে বিশ্বের অসংখ্য রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আর সেটা থাকাও স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্ব পরিমণ্ডলে অধ্যাপক ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা ঠিক কতটা, তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে তিবি দায়িত্ব নেওয়ার পর।

এত কিছু তো বললাম, এবার একটা রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরি আপনাদের সামনে তাহলে আপনারাই বুঝতে পারবেন ঠিক কতটা শান্তিতে রয়েছেন ওপার বাংলার মানুষ। বলতে পারেন ইউনুস সরকারের ১৩ মাসের রিপোর্ট কার্ড। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি- প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত ১৩ মাসে অন্তত ১ হাজার ৪৭টি রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। ইউনুসের বাংলাদেশে এই ১৩ মাসে আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৫০ জন। আরও একবার শুনুন ইউনুসের বাংলাদেশে এই ১৩ মাসে আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৫০ জন। রাজনৈতিক হিংসায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। শুধু বিএনপি-র অন্তঃকোন্দলে নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। আর আহত হয়েছেন ৫ হাজার ১৭ জন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সমাবেশ কেন্দ্রিক সংঘর্ষ, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, চাঁদাবাজি—এসব কারণেই অধিকাংশ হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ফলে বুঝতে পারছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনুস ঠিক কতটা অশান্তির কারণ ওপার বাংলার জন্য। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসিনার পতনের পর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও রাজনৈতিক হিংসা, মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বাংলাদেশে। বরং নানান ধরনের হিংসতা-অপরাধের ঘটনায় সেখানের জনগন উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।

তবে এখানেই শেষ নয়। আরও কিছু পরিসংখ্যান আপনাদের সামনে তুলে ধরব। দেখুন, ইউনুসের শাসনে বাংলাদেশে বিএনপি ও এর সংগঠনগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হয়েছে। আর এই সংঘর্ষে বিএনপি অর্থাৎ খালেদার দলের ৮৫ জন নেতা-কর্মী মারা গিয়েছেন। আর আহত কতজন জানেন, আহত প্রায় ৫ হাজার ১৭ জন। হাসিনা ও খালেদা জিয়ার দল অর্থাৎ বিএনপি ও আওয়ামী লিগের মধ্যে কম সংঘর্ষ হয়নি। এই দুই প্রধান দলের মধ্যেও ২২১টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ইউনুসের ১৩ মাসের শাসনকালে। আর নিহত হয়েছেন ৩৪ জন। আহত হয়েছেন আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৪১ জন। বিএনপি ও জামাতের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়েছে ৪০ বার। আর এই সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ এবং সেদেশের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মধ্যেও সংঘর্ষ হয়েছে ২০ বার। আর এই ২০ বার সংঘর্ষের বলি ১ জন। বাংলাদেশে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি-র সঙ্গে খালেদা জিয়ার দলেরও ১৮ বার সংঘর্ষ হয়েছে। এই ১৮ বারের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও আহত হয়েছেন প্রায় ১৪০ জন। তবে বিভিন্ন রাজনৈত্ক দলের মধ্যে হিংসার ঘটনা নয়, ছাত্র রাজনীতিতেও বেশ কিছু হিংসার ঘটনায় সময়ে সময়ে উত্তাল হয়েছে পদ্মাপাড়। এবং হিসাব বলছে ছাত্র রাজনীতির ৩৮টি ঘটনায় বাংলাদেশে ৩ জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৩৩০ জন। এছাড়া তো বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, দোকান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এসব মামুলি ব্যাপার।

আপনাদের জানাই, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের প্রথম বর্ষপূর্তিতে কানাডার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্র্যাটিক গর্ভন্যান্স একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল,
গত এক বছরে গণ-হিংসায় পিটিয়ে মারার ঘটনায় বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৬৩৭ জন। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে গণপিটুনিতে প্রাণ গিয়েছিল ৫১ জনের। অর্থাৎ, একেবারে সোজা হিসাব, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের জমানার তুলনায় ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হিংসায় মৃত্যু বেড়েছে ১০ গুণেরও বেশি। ঠিক-ভুল বিচারের দায়িত্ব এবার আপনার।