‘চটিচাটা’ পাক প্রধানমন্ত্রী!

“ট্রাম্প একজন প্রকৃত শান্তির দূত এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী”- এমন মন্তব্য করে ট্রোলড পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

রিমা দত্ত, সাংবাদিক : ‘চটিচাটা’ এই শব্দটা আমাদের খুব পরিচিত একটা শব্দ। বাংলা হোক বা ইংরেজি যেকোনও ভাষাতেই এই শব্দের মানে এক। কি ভাবছেন, চটিচাটা শব্দ নিয়ে আজ কেন আপনাদের সামনে এত কথা বলছি, শুনুন তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে গাজার শান্তি সম্মেলনে যান পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় পাক প্রধানমন্ত্রীকে। এমন কি নোবেল পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম সুপারিশ করে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত প্রশস্তি গাইতে থাকেন। যা অবাক করে দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট খোদ ট্রাম্পকেও। পাক প্রধানমন্ত্রীর কথায়, তিনি কার্যতই খুশিতে ডগমগ হয়ে ওঠেন। কিন্তু তিনি খুশি হলেও নেটিজেনরা বিরক্ত। এক রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে অন্যের সামনে নতজানু হতে দেখে। এমনকী পাকিস্তানের নাগরিকরাও এতে বিরক্ত। দাবি, জুতো চাটায় রীতিমতো দক্ষতা দেখাচ্ছেন শাহবাজ। তাঁকে এজন্য নোবেল দিয়ে দেওয়া উচিত।

মিশরে আয়োজিত হয় গাজা পিস সামিট। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে কার্যত আবেগে ভেসে যান পাক প্রধানমন্ত্রী। পাঁচ মিনিটের বক্তৃতায় যেন ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান তিনি। ট্রাম্পকে বলেন, তিনি একজন প্রকৃত শান্তির দূত এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। আর এটা নিয়েই নেটপাড়ায় ট্রোল করছেন নেটিজেনরা।  শাহবাজের এই মন্তব্য ভালভাবে নেয়নি  সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক, ইন্ট্রাগ্রাম, এক্সহ্যান্ডলের মতো সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে পাক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া। কেউ লিখেছেন ‘বিরক্তিকর’ আবার কেউ বলেছেন ‘লজ্জাজনক’। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আচরণ বহু মানুষকেই অবাক করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের জুতো চাটার জন্য তাঁর নোবেল পাওয়া উচিত। গাজার শান্তি সম্মেলনে শাহবাজকে বলতে শোনা যায়,

”ট্রাম্প শুধু দক্ষিণ এশিয়াকে শুধু বাঁচাননি, কোটি কোটি মানুষকে বাঁচিয়েছেন গাজা, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষকে বাঁচিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আপনাকে স্যালুট জানাই, এই অভাবনীয় নেতৃত্বের জন্য। উনিই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সবচেয়ে প্রকৃত এবং সবচেয়ে চমৎকার প্রার্থী”

ট্রাম্প শেষপর্যন্ত নোবেল পাননি। কিন্তু শাহবাজের প্রশস্তিতে নেটিজেনরা বলছেন, বরং পাক প্রধানমন্ত্রীকেই তোষামোদির জন্য এই পুরস্কার দেওয়া দরকার। তিনি এমন সব কথা বলছেন দেখে ট্রাম্প হাসতেও দেখা যায়, তিনি যে পাক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এতটা প্রত্যাশা করিনি সেটাও ট্রাম্প জানান।

সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গেছে নানা কটাক্ষের পোস্টে। কেউ লিখছেন – ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে শাহবাজ শরিফের এমন অকারণ চাটুকারিতা পাকিস্তানিদের জন্য লজ্জাজনক। আবার কেউ বলছেন – যখনই ট্রাম্প তাঁর জুতো ঝকঝকে করতে চান, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ডাকেন। আরও একজন ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে বলেন – চাটুকারিতায় পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীকে কেউ হারাতে পারবে না।

তবে এত সমালোচনার মধ্যেও উঠে আসছে অন্য প্রসঙ্গ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছিল। সেই থেকেই আমেরিকার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে চলছিল বন্ধু ভারত। তারপরই বিভিন্ন মঞ্চে পাক ও আমেরিকার সম্পর্ক বেশ চর্চিত হয়। আরও কাছাকাছি আসে ট্রাম্প ও শাহবাজ। তারপর থেকে বরাবরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ‘সুসম্পর্ক’ ছিল। গাজা সম্মেলনের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে সোশ্যাল মিডিয়া নতুন নামে ডাকে শুরু করেছে – ‘বুটলিকার’ অর্থাত জুতোচাটা। সঙ্গে ছড়িয়েছে অসংখ্য মিম।