ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা আদায় দুষ্কৃতীদের। আরও টাকা না পেয়ে মারধর
শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবি করার অভিযোগ। ক্যাশ এবং অনলাইনে দু’লক্ষ ষাট হাজার টাকা নেওয়ার পরেও মারধর করা হয় অভিযোগ। আহত মোট চারজন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ব্যবসায়ী সহ দুজন। ইনফর্মার সন্দেহে গ্রামেরই এক যুবককে গ্রামবাসীরা ধরে ফেলে। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি বাদুড়িয়া থানার শিমুলতলা এলাকার ঘটনা। সেই গ্রামেরই বাসিন্দা মোমিন মণ্ডল বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহৃত মশলার ব্যবসা করেন। সেই ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার গাইঘাটার এক ব্যবসায়ীর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সে বাদে আরও তিনজন ব্যবসাদার তার সাথে যান। গাইঘাটায় যাওয়ার আগেই তাদেরকে আটকায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। তাদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাদের কাছে থাকা সমস্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মোমিন মণ্ডলের বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপণের টাকা চায় দুষ্কৃতীরা। দুষ্কৃতীদের কথা মতো অনলাইনে পরপর চার ধাপে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু সেই টাকা পাওয়ার পরেও তাদেরকে মারধর করতে থাকে। আরও টাকা দিতে বলে। এবার মোমিন মণ্ডলের একজন আত্মীয় এক লক্ষ টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এরপর সেই এক লক্ষ টাকাও নিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। যে টাকা নিয়ে যায়, তাকেও আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পরেও তাদের দাবি মেটেনি।

মোমিন মণ্ডল সহ চারজন ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। মারধরের পর গভীর রাতে নির্জন এলাকায় তাদের ছেড়ে আসা হয়। এরপর মোমিন মণ্ডল সহ তার চারজন সঙ্গী গাড়ি নিয়ে চলে আসে বাদুড়িয়ায়। তাদেরকে দেখেই এলাকার মানুষ একজোট হয়ে যায় এবং মোমিন মণ্ডল সহ চারজনকে প্রথমে বাদুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দুজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক হয় তাদেরকে বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেই দুজনেরও চিকিৎসা চলছে বর্তমানে। অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবারের তরফ থেকে বাদুড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রামেরই এক যুবককে ইনফর্মার সন্দেহে গ্রামের মানুষ আটকে রাখে এবং মারধর করে বলে অভিযোগ। বাদুড়িয়া থানার পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসা করছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ।