শুভেন্দুর মুখে প্রতিশ্রুতির বন্যা। মহিলা ভোটে জোর বিরোধী দলনেতার!
সুচারু মিত্র, নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিজেপি এখন ব্যস্ত সাংগঠনিক কর্মসূচিতে। কোন কোন জেলায় সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে, কোন জেলায় এখনও পর্যন্ত সেইভাবে ছাপ ফেলা যায়নি সমস্ত কিছু নিয়ে রাজ্য বিজেপি এখন প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী বারে বারে বাংলা সফর করে গিয়েছেন। বিহার নির্বাচন শেষ হলে বঙ্গ সফরের ঝাঁঝ আরও বাড়াবেন মোদী-শাহ। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ কোন জেলায় সাংগঠনিক পরিস্থিতি কী রয়েছে তার নিয়ে বারে বারে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং পদাধিকারীরা বৈঠকও করেছেন। জেলা নেতৃত্বদের কাছে বারে বারে বার্তাও যাচ্ছে- কোনও খামতি যেন না থাকে। একদিকে মহিলা ভোটে নজর, অন্যদিকে হিন্দু ভোট। বিজেপির কাছে এখন এই বিষয়টা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আর এই প্রেক্ষাপটের মধ্যেই এবার রাজ্য বিজেপির ইস্তেহার ঘোষণার আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তার মতো করে ইস্তেহার ঘোষণা করে দিলেন।

মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে নিজের জেলায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দিয়ে দিলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার হলে তারা ঠিক কী কী করবেন..। প্রথম প্রতিশ্রুতিতে শুভেন্দু অধিকারী বললেন, বাংলায় তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের জন্য বাসে আর কোথাও টিকিট লাগবে না। তারা সরকারে এলে এই ব্যবস্থাটায় প্রথম জোর দেবেন। এরপর প্রত্যেকটা বাড়িতে ৫০০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার, সেই প্রতিশ্রুতিও দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এইখানেই শেষ নয়, অন্নপূর্ণা ভান্ডারে দেওয়া হবে ৩০০০ টাকা আর তার সঙ্গে ১০ লক্ষ টাকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প। অর্থাৎ আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হবে সাধারণ মানুষকে। আর সেই বিমাতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।

সবমিলিয়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সরকারিভাবে রাজ্য বিজেপি এখনও ইস্তেহার প্রকাশ করেনি। তবে তার আগেই কাঁথিতে মৌখিক ইস্তেহার প্রকাশ করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই লাইনকে সামনে রেখেই মানুষের কাছে যাওয়ার বার্তা দিলেন তাঁর প্রচারে এই বিষয়গুলিই থাকবে। রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসে ভ্রমণ, এই বিষয়টাকে সামনে রাখার মানেই মহিলা ভোটে নজর দিচ্ছে রাজ্য বিজেপি। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, আর ৫% ভোট পেলেই রাজ্যে ক্ষমতায় চলে আসবে বিজেপি। সেই অঙ্কেই এবার মহিলা নির্বাহ প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু। তবে এবার দেখার যে, এই প্রতিশ্রুতিতে কতটা অক্সিজেন পেতে পারে রাজ্য বিজেপি। যদিও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। ২০২১ সালে তৃণমূলের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি বা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ -এর মতো প্রকল্প তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে অনেক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। ২০২৬-এর প্রতিশ্রুতি রক্ষার লড়াইয়ে বিজেপি কি উত্তীর্ণ হতে পারবে? বলে দেবে সময়।