এবার চাঁদ ধরবে বাংলাদেশ!

আর নেই শেখ হাসিনার শাসনকাল। এখন বাংলাদেশে চলছে ইউনুসরাজ। রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা ঠিক না থাকায় আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা বহু ক্ষেত্রেই সীমাহীন। সেখানেই এবার নতুন আশা।

নাজিয়া রহমান,সাংবাদিক: অন্তর্বর্তী সরকার সবকিছু সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও নির্বাচিত সরকার না থাকার ফাঁক সবকিছুকেই প্রকট করে দিচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছুঁইছুঁই। সেই বাংলাদেশই এবার মহাকাশ ছুঁতে চলেছে।
এবার দেশ- বিদেশ ছেড়ে বাংলাদেশ মহাকাশে পাড়ি দেবে। হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন। এই নিয়ে নাসার সঙ্গে চুক্তিও করেছে বাংলাদেশের বর্তমান কেয়ারটেকার সরকার। ২০২৭ সালে কোনও বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী মহাকাশে যেতে পারেন। অন্তত এমনই আশা বাংলাদেশের বর্তমান ইউনুস সরকারের।

চাঁদের মাটিতে উপনিবেশ গড়ার লক্ষ্যে আর্টেমিস মিশন (Artemis Mission) নিয়ে ব্যস্ত আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা. শুধু চাঁদ নয়, পরবর্তীকালে মঙ্গলের মাটিতেও উপনিবেশ স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থার । সেই অভিযানের অংশ হতে আমেরিকার সঙ্গে ৫৪ তম দেশ হিসেবে চুক্তিস্বাক্ষর করেছে ঢাকা। এই নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বলেন, “আর্টেমিস চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ, যা আগামী দিনে নাসা এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের বোঝাপড়াকে উন্নততর করে তুলবে। এই চুক্তিস্বাক্ষর করে মুক্ত, দায়িত্বশীল এবং শান্তিপূর্ণ মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি স্থাপন করল বাংলাদেশ।”

চাঁদ পেরিয়ে, মহাশূন্যের গভীরে শান্তিপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের লক্ষ্যেই এই চুক্তি। ইউনুস সরকারের মুখে শান্তির কথা। বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল্যায়ন করতে গেলে প্রশংসার তুলনায় সমালোচনার দিকগুলোই বেশি প্রকাশ্যে আসে। ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর আন্দোলনকারী সকল পক্ষের সমর্থনে অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বে আটই অগাস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। নতুন এই অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকারের আমলে সফলতা-ব্যর্থতার আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে অর্থনীতি, বিচার সংস্কার এবং মব ভায়োলেন্সের মতো বিষয়গুলি।

Artemis চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করছেন সেখানকার অন্তর্বর্তী সরকার। হাসিনা সরকারের পতন থেকে ইউনুসের আগমন তারপরেও কয়েক মাসে বেনজির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে ওই দেশের মানুষকে। ইউনুস সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে চলা অচলাবস্থার জেরে আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ইউনুস সরকারকে। ফলে এই চুক্তি দেশের বিজ্ঞান মনস্ক মানুষকে আশা জোগাচ্ছে বলে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।

নাসার সঙ্গে এই চুক্তির দ্বারা বাংলাদেশ উপকৃতও হবে বলে মত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের। এই চুক্তির ফলে নাসার থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা Space Research and Remote Sensing Organization (SPARRSO) মহাকাশ থেকে দেশের নজরদারির জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করার উৎসাহ পাবে । কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে বাংলাদেশের জলবায়ুর উপর নজরদারি চালিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় ব্যবস্থাগ্রহন করতে পারবে। এই চুক্তির জেরে বাংলাদেশের পড়ুয়ারা নাসার শিক্ষামূলক অংশ হতে পারবে। অর্থাৎ আগামীতে শিক্ষার প্রসারও হতে পারে এই চুক্তির ফলে। চাঁদের দেশে কতটা পাড়ি দিতে পারবেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী তা পরবর্তীকালেই বোঝা যাবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সবচেয়ে উৎসাহিত করছে ভারতই। প্রতিবেশী দেশের সাফল্য বাংলাদেশের অজানা নয়। মহাকাশ গবেষণা ও চর্চায় ভারত যে কয়েক কদম এগিয়ে গিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনও জায়গাই নেই। ইউনুসের এখন স্বপ্ন চাঁদকে ছুঁতেই হবে। এখন দেখার চাঁদ আর বাংলাদেশের মধ্যেকার দূরত্ব চুক্তির ফলে কতটা মেটে।