বাঁকুড়ার পাটরাপাড়ায় দীপান্বিতা অমাবস্যায় দেবী দুর্গার বোধন। প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই রীতি।
মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা: কালীপুজোর দিনে দুর্গাপুজো। এ যেন অকাল বোধনের অকাল বোধন। যখন সবাই চারদিকে কালী শক্তির আরাধনা ও আলোর উৎসবে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এক প্রকার নিঃশব্দেই দেবী দুর্গার আরাধনার প্রস্তুতিপর্ব চলছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের পাটরাপাড়ার রক্ষিত পরিবারে।

গত ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পাটরাপাড়ায় দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন শুরু হয় দেবী দুর্গার বোধন। মা এখানে অসুরদলনী নন, নন সিংহবাহিনীও। এই সময় এখানে তিনি ঘরের মেয়ে উমা। লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ আর শিব সহ দুর্গা সপরিবারে পূজিতা হন এখানে। শারদীয়া দুর্গোৎসবের মতোই এই সময় এখানে টানা চার দিন পুজো হয়। শুরুর দিন চালকুমড়ো বলি প্রথাও চালু রয়েছে রক্ষিত বাড়ির পুজোতে।
রক্ষিত পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় ২০০ বছর আগে তাঁদের বংশের কোনো এক সদস্যাকে দেবী দুর্গা স্বপ্নাদেশ দেন। যেখানে দেবী দুর্গা, শিব সহ লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের মূর্তি তৈরী করে পুজোর নির্দেশ পান তিনি। ২০০ বছর পূর্বে রক্ষিত পরিবারের পূর্ব পুরুষদের রেশম গুটির ব্যবসা ছিল পুরুলিয়াতে। জঙ্গল থেকে তসরের এই গুটি সংগ্রহ করত রক্ষিত পরিবারের তৎকালীন সদস্যরা। একদিন রক্ষিত পরিবারের কোন এক পূর্বপুরুষ জঙ্গলে গুটি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। গভীর জঙ্গলে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে সেখানেই একটি গাছের তলায় ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। তখন দেবী মা তাকে স্বপ্নাদেশ দেন তাদের গ্রামের বাড়ি অর্থাৎ বিষ্ণুপুরে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। মায়ের সাথে বিরাজ করবেন দেবাদিদেব মহাদেব, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। সেভাবেই একটি মূর্তি রয়েছে। তখন থেকে শুরু হয় রক্ষিত পরিবারে কালীপুজোর দিনে দুর্গাপুজো। এখানে রীতি রয়েছে মাকে যেহেতু ঘরের মেয়ে রূপে পুজো করা হয় তাই ভাই ফোটার পরে মাকে বিসর্জন করা হয়। কারণ ভাই ফোঁটার পরে ঘরের মেয়েরা ঘরে ফিরবে এবং মা ও তার সাথে ঘরে ফিরবে এটাই রীতি এটাই নীতি। মায়ের ঘট বিসর্জন না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা কেউ বিষ্ণুপুর ছেড়ে যান না। শারদীয়া পুজোর পরিবর্তে তাদের বাড়ির পুজোয় আত্মীয় স্বজনদের আমন্ত্রণ করা হয়। তাই এসময় পরিবারে সবাই আসেন। এই ভাবেই বছরের পর বছর হয়ে আসছে রক্ষিত পরিবারের পুজো।