৬দিনের সদ্যোজাতকে চুরি করে পালানোর চেষ্টা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ১ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করল পুলিশ।
অনুপ চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: কোলে নিতে ইচ্ছে করছে বলে মায়ের কোল থেকে সদ্যোজাতকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ। হুগলির নগার মোড় থেকে মহিলাকে পাকড়াও পুলিশের। শিশুটিকে উদ্ধার করা হল।

শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা। গত বুধবার হুগলির কোন্নগর ঘোষাল বাগানের বাসিন্দা নেহা কুর্মি প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে ভর্তি হন। বৃহস্পতিবার সিজার করে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। আজ সাড়ে এগারোটা নাগাদ তাঁর ছুটি হয়। বাইরে গাড়ি ডাকতে যান পরিবারের লোকজন। ৬দিনের কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাইরে বসেছিলেন তার মা। সেই সময় কালো বোরখা পরে এক মহিলা এসে বলেন, তারও নাতি হয়েছে। তাই কন্যা সন্তানটিকে কোলে নিতে ইচ্ছে করছে। এরপরই মায়ের কোল থেকে শিশুকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান ওই মহিলা। খবর পেয়ে তৎপর হয় পুলিশ। সিসিটিভিতে দেখা যায় মহিলা শিশুটিকে কোলে নিয়ে গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছন আইসি শ্রীরামপুর এসিপি সহ চন্দনগর পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

ঘটনাটি ঘটার ২৫ মিনিটের মধ্যে থানায় খবর দেওয়া হয়। সেজন্য অভিযুক্ত বেশিদূর পালাতে পারেনি। তড়িঘড়ি নাকা তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। অবশেষে শ্রীরামপুর নগার মোড় থেকে অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করেন পুলিশকর্মীরা। অভিযুক্ত মহিলাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সমস্তটা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অভিযুক্ত ওই মহিলা কী উদ্দেশ্যে সদ্যোজাতকে নিয়ে যাচ্ছিল, কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল, এর পিছনে কোনও শিশুপাচার চক্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তবে এই শিশু চুরির ঘটনা হাসপাতালে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। হাসপাতাল চত্বরে কীভাবে এধরণের দুষ্কৃতীরা জাল পাতছে? প্রশ্ন উঠছেই। অন্যদিকে অভিযুক্ত মহিলাকে জেরা করে পুলিশ জানার চেষ্টা করবে, তার কোনও সহযোগী ওই হাসপাতালে বা অন্য কোনও হাসপাতালে এধরণের শিশুচুরি করছে কিনা বা শিশুচুরির পরিকল্পনা করছে কিনা, সবটা জানতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকায় খুশি শিশুটির পরিবার। শিশুটিকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছিল বলে ১ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে মায়ের কোলে ফেরানো সহজ হয়েছে। না হলে পুলিশকেও বেগ পেতে হত বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য সচেতন হতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও।