সরকারি হাসপাতালে ডালপালা মেলছে দালালচক্র!

হিঙ্গলগঞ্জের সরকারি হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে রক্ত নিচ্ছে দালাল!

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ভরসা একমাত্র সরকারি হাসপাতাল। এবার সেই সরকারি হাসপাতালেই দালাল চক্রের খোঁজ পেল প্রশাসন। সুন্দরবনের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে দালালের খপ্পরে পড়তে হয় রোগীর পরিবার পরিজনদের। রোগীর শরীর থেকে বিনা কারণে রক্ত নেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয় দালালদের।

বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ থানার স্যান্ডেলের বিল গ্রামীণ হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশান্ত রায় নামে এক ব্যক্তিকে আটক করল হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। এদিন সকালে সুন্দরবনের লেবুখালী এলাকায় বসবাসকারী শান্তি মুন্ডা নামের এক মহিলা তার প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যান হিঙ্গলগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত ওই সরকারি গ্রামীণ হাসপাতালে। তাঁর স্বামীকে হাসপাতালের বেডে শুইয়ে রক্ত নেওয়া এবং সেই রক্তে নেওয়ার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ৮০০ টাকা দাবিও করা হয়। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ঝামেলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতেই একালাবাসীরা ঘটনাস্থলে জমায়েত শুরু করে। প্রশান্ত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে সঠিক উত্তর না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেন এলাকাবাসীরা।  পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আটক করে প্রশান্ত রায়কে। ঘটনার তদন্তের পর জানা যায়,  ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কারোর কাছ থেকে ৭০০, আবার কারোর কাছ থেকে ৮০০ টাকার বিনিময়ে এই কাজ হসপিটালের ভিতরে বহুদিন ধরে করে আসছে।  এমনটাই অভিযোগ করেছেন এলাকার লোকেরা। এই ঘটনা ঘটার সাথেসাথেই  শোরগোল পড়ে যায় গোটা হাসপাতাল জুড়ে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে শান্তি মুন্ডার পরিবারের পক্ষ থেকে হিঙ্গলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রশান্ত রায়কে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় হিঙ্গলগঞ্জ থানায়। এ বিষয়ে সান্ডেলার বিল গ্রামীন হাসপাতালের BMOH ড:অসীম বালা কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সরকার বা হাসপাতাল সব রকম পরিষেবা দিচ্ছে। তাই আইন আইনের পথে চলবে, পুলিশ পুলিশে কাজ করবে। আমরা প্রশাসনকে সম্পূর্ণরুপে সহায়তা প্রদান করব। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এমনই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে কীভাবে দালাল চক্র মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কি কিছুই জানেন না? নাকি সব জেনেও মুখে কুলুপ এঁটেছে।