উলুবেড়িয়া হাসপাতালে পেনডাউন চিকিৎসকদের

জুনিয়র মহিলা চিকিৎসককে নিগ্রহকাণ্ডে গ্রেফতার ৪জন। ৯ ঘণ্টার পেনডাউন কর্মসূচি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসকদের।

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা:  উলুবেড়িয়ায় জুনিয়র মহিলা  চিকিৎসককে শ্লীলতাহানি ও খুনের হুমকির ঘটনায় ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছিল। পুলিশ সূত্রে খবর এই ঘটনায় যুক্ত আরও কয়েকজনের খোঁজ চলছে। এদিকে হাসপাতালের ভিতরে নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার কর্ম বিরতি শুরু করলেন চিকিৎসকদের একাংশ। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সামিল হলেন চিকিৎসকরা। চাই না প্রতিশ্রুতি, চাই সুরক্ষা, চাই অধিকার। জবাব চাইতে উঠবে ঝড় উলুবেড়িয়া টু আরজিকর, আমার মাটি আমার মা, ধর্ষকদের হবে না। এধরণের একাধিক প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সামিল হলেন চিকিৎসক পড়ুয়ারা।

বর্তমানে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ৭০ থেকে ৮০ জন জুনিয়র এবং সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক রয়েছেন। মহিলা জুনিয়র চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনার প্রতিবাদে ১১ দফা দাবি তুলে শুক্রবার সকাল থেকে পেন ডাউন কর্মসূচি করেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় এই পেন ডাউন কর্মসূচি। চিকিৎসকরা যেসব দাবি তুলেছেন, তার মধ্যে রয়েছে-

১. হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে

২. অভিযুক্ত অস্থায়ী হোম গার্ডকে পুরোপুরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে

৩.  হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হবে

৪. প্যানিক বাটন লাগাতে হবে

৫.  ওয়ার্ডে ঢোকার মুখে থাকা লিফটগুলি বন্ধ রাখতে হবে

৬. রোগীর সঙ্গে যেকোনও একজন আত্মীয়কেই ঢোকার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে

৭.  কর্মীদের সচিত্র পরিচয়পত্র তৈরি করতে হবে

এমনই একগুচ্ছ দাবি তুলেছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। এর মধ্যে ইতিমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।  

যদিও চিকিৎসকদের এই কর্ম বিরতির ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা তেমন একটা ব্যাহত হয়নি বলে দাবি করছেন রোগী ও রোগীর আত্মীয়রা। পরিষেবা ব্যাহত না করে আন্দোলন চালাবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। আন্দোলনকারী এক চিকিৎসক জানাচ্ছেন, কয়েকদিন আগেই উলুবেরিয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ওয়ার্ডে ডিউটিরত মহিলা চিকিৎসকের উপর কী করে চড়াও হল বাইরের অতগুলো মানুষ?  প্রশাসন সাহায্য করছে, কিন্তু হাসপাতালের ভিতরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা কোথায় সেই প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ পেন ডাউন করেন চিকিৎসকরা। তবে ওয়ার্ড বা এমার্জেন্সিতে সাহায্য লাগলে আন্দোলনকারীরা ছুটে যাচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন। শুধুমাত্র ওপিডিতে পেনডাউন করা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে চিকিৎসকদের আন্দোলন হলেও সমস্ত পরিষেবা একদমই স্বাভাবিক বলে জানাচ্ছেন হাসপাতালে আগত রোগীরা। চিকিৎসকদের দেখানো থেকে শুরু করে ওষুধ পাওয়া কোনও ক্ষেত্রেই কোনও অসুবিধা হয়নি বলে জানাচ্ছেন রোগীরা।