ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র ভ্রুকুটি

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস,  মাইকিং সিভিল ডিফেন্সের

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা​বাঙালির দুর্গোৎসবের মরসুম প্রায় শেষ। মা দুর্গা, মা কালী বিদায় নিয়েছেন। এবার শীতের অপেক্ষায় বাঙালি। তার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে বঙ্গোপসাগরে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, রবিবার সকালেই গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে বঙ্গোপসাগরে থাকা নিম্নচাপ।

সোমবার ভোররাতে দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ‘মান্থা’। বর্তমানে এটি এগোচ্ছে  পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে। মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এবং সন্ধে বা রাতে ‘মান্থা’ আছড়ে পড়বে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ায়। ল্যান্ডফলের সময় সর্বোচ্চ বায়ুর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা, এই গতিতে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে এটি। তার জেরে ব্যাপক দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা সহ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে হাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর বাংলার উত্তর ও দক্ষিণে কমতে পারে তাপমাত্রার পারদ। ২ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।  

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র প্রভাবে আগামী ২৮ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এই সময়ের মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

​আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিমধ্যে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সমুদ্র সৈকতে মাইকিং প্রচার শুরু করেছেন। মৎস্যজীবীদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে বা উপকূলে ফিরে আসার কথা বলা হচ্ছে। একইসঙ্গে, সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘মান্থা’। এটি সরাসরি অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে। এর প্রভাবে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। প্রশাসন উপকূলীয় এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

সাগর ব্লকের সিভিল ডিফেন্সের সদস্য কল্যাণ গিরি জানাচ্ছেন, “আবহাওয়া দফতরের নির্দেশ রয়েছে ২৮ থেকে ৩০ তারিখ বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকবে। তাই সিভিল ডিফেন্স বা সাগর ব্লক প্রশাসনের তরফে মাইকিং করা হচ্ছে। যেসব মৎস্যজীবীরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান, তাঁদেরকে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা যাতে এইসময়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে না যান। যাঁরা ইতিমধ্যে গিয়েছেন, তাঁরা যাতে ২৮ তারিখের আগে ফিরে আসেন।“