আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার কুখ্যাত বাংলাদেশি দুষ্কৃতী

হিঙ্গলগঞ্জ থেকে গ্রেফতার কুখ্যাত বাংলাদেশি দুষ্কৃতী ওহিদ গাজী। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ

শ‍্যাম বিশ্বাসনিজস্ব সংবাদদাতা: আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী। শনিবার রাতে বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ থানার ৪ নম্বর স্যান্ডেলবিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ওহিদ গাজীর বাড়ি বাংলাদেশে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে নিজের স্ত্রীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায় ওহিদ গাজী। ওই দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীরা সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। রবিবার তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। এরপর স্যান্ডেলবিল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ওহিদ গাজীকে থানার পুলিশ আদালতে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তার বাড়ির সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এলাকাবাসীর দাবি— ওহিদ গাজী ও তার পরিবার বাংলাদেশি। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে সে। আরও অভিযোগ, সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দুষ্কৃতীমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত।

প্রথম পক্ষের স্ত্রী জানান,  ওহিদ দ্বিতীয়বার বিয়ে করে কুয়েতে চলে গিয়েছিল। তারপর ফিরে এসে প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে মারধর করে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ওদিহ গাজীর মতো মানুষ সমাজে থাকাটাকাও বিপজ্জনক। তাকে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া উচিত।  এখন প্রশ্ন হচ্ছে ওই ওদিন গাজী বাংলাদেশের নাগরিক। অথচ সে ভারতে দিব্যি বসবাস করছিল। ভারতীয় বাসিন্দা হিসেবে সমস্ত নথিপত্রও রয়েছে তার কাছে।  তাহলে গাফলিতি কার ? তার কাছে এত সহজেই ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে নিল বাংলাদেশি দুষ্কৃতী?  এই ঘটনার পর সুন্দরবনের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। একের পর এক অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে ঘাঁটি গেঁরে বসেছে গোটা হিঙ্গলগঞ্জ জুড়ে। এদের পেছনে কার হাত রয়েছে, তা তদন্ত করুক পুলিশ প্রশাসন।

সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে গোটা রাজ্যে এসআইআর চালুর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। মোদী শাহ আগেই বলেছেন, যাঁরা দেশের নাগরিক নয়, তাদেরকে কোনওমতে দেশে থাকতে থাকতে দেওয়া হবে না। অথচ আইনের ফাঁক গলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে দিব্যি বসবাস করছে বাংলাদেশি বাসিন্দারা। বেআইনিভাবে দেশে ঢুকে দেশের ভিতরে দুষ্কৃতীমূলক কাজকর্ম চালায় এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা। এদের পরিচয় পত্র তৈরি করে দেওয়ার পিছনে কে বা কারা কাজ করছে, তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে প্রশাসনকেই। তাহলেই সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। সুস্থভাবে ভোট সংগঠিত করা যাবে।