আরজিকরের আবহে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। তাহলে কি অন্যভাবে মা হচ্ছেন সোহিনী? ঠিক কী বললেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার ?
সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: এই মুহূর্তে সোহিনী সরকার টলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ পরিচিত নাম একের পর এক কাজ তার হাতে। বেশ লম্বা চেহারা, টানা টানা চোখ অভিনয় দক্ষতা সব মিলিয়ে সোহিনীকে বং ক্রাশ বললেও ভুল হয় না। সম্প্রতি দেবের রঘু ডাকাতে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাকে, সিনেমায় তার অভিনয়ও বেশ প্রসংসিত। ডাকাত দলের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন তিনি। শুধু রঘু ডাকাতই নয়, সম্প্রতি তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ অথৈও বেশ প্রশংসাই পেয়েছিল। এর আগে পরিচালক সৃজিতের রাজকাহিনীতে তার অভিনয়ও ব্যাপক সাড়া ফেলে। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা দুই ক্ষেত্রেই সমান ভাবে সাবলীল তিনি। আবার প্রতিবাদেও পিছপা হন না। আরজিকর আবহে গোটা রাজ্য যখন উত্তাল তখন তিনি পা মিলিয়েছিলেন সমস্ত প্রতিবাদী মিছিলে। সোচ্চার হয়েছেন সরকারের বিরুদ্ধে তখন বলেছিলেন এই রাজ্যে বা দেশে তিনি তার সন্তানকে আনতে চান না, যা নিয়ে তুমুল শোড়গোল হয়েছিল এবার মাতৃত্ব প্রসঙ্গেই ফের আলোড়ন ফেলে দেওয়া মিন্তব্য করলেন তিনি। দেখুন সোহিনীকে নিয়ে যখন কথা হচ্ছেই তখন সেখানে অবধারিত ভাবে নাম আসবে অনির্বাণেরও। একথা একটা সময় প্রায় সকলেই জানতেন তারা সম্পর্কে আছেন যদিও কেউই সেইকথা স্বীকার করতেন না তারা, মাঝে দুজনের দুটি পথ আলাদা হয়ে গিয়ে দুজন সংসার করছেন আলাদা ভাবেই, এতদিন বাদে সোহিনী স্বীকার করেছেন তার এবং অনির্বাণের সম্পর্কের কথা। সাল ২০১৯ তখন শুরু হয়েছিল টলিপাড়ায় এক নরম গুঞ্জন—দু’জনের সম্পর্ক নাকি রিল লাইফ ছেড়ে পাড়ি দিয়েছে রিয়েলেও। তবে কেউই মুখ খোলেননি সে সময়। অনির্বাণ বরাবরই বলেছেন, সোহিনী তার খুব ভালো বন্ধু। আর সোহিনীও চুপ থেকেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে যখন সবকিছুই নিজের মুখ খোলে, তখন হয়তো সম্পর্কও আর লুকিয়ে থাকে না তাই সব নীরবতা ভেঙে সোহিণি জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠ নয়, একটা সময় তাদের সম্পর্কও ছিল। আসলে সোহিনী আর অনির্বাণের কাজের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মঞ্চ থেকে শুরু করে বড়পর্দা সব জায়গাতেই সোহিনী আর অনির্বাণের জুটি ভীষণ জনপ্রিয়। ব্যোমকেশ থেকে শুরু করে একাধিক সিনেমা, সিরিজে অনির্বাণ সোহিনীর রসায়ন দর্শকদের মন কেড়েছে। এমনকি অনির্বাণ যখন প্রথম ওয়েব সিরিজ পরিচালনা করলেন, সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন সোহিনী সরকার। এরপরে ‘অথৈ’-তে একসঙ্গে কাজ করেন তাঁরা। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশের অন্যতম আকর্ষণই ছিল অনির্বাণ সোহিনীর অর্থাৎ ব্যোমকেশ আর সত্যবতীর জুটি। একে অপরের বিপরীতে না হলেও, শেষবার তাঁরা এক সিনেমায় কাজ করেছেন ‘রঘু ডাকাত’-এ। তবে যখনই একসঙ্গে বা আলাদা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাঁরা, সবসময়েই একে অপরকে বন্ধু বলে দাবি করেছেন। তবে অবশেষে সোহিনী সিলমোহর দিয়েছেন অনির্বাণ ও তাঁর সম্পর্কের মধ্যে।

সোহিনী যখন আরজিকর কাণ্ডে বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন একটা কথা শোনা গিয়েছিল আর হয়ত টলিউডে সেইভাবে কাজ পাবেন না তিনি। হয়ত একঘরে করে দেওয়া হবে তাকে কিন্তু তিনি সেই সবের তোয়াক্কা না করে প্রতিবাদেরই পাশে থেকেছেন সেই সময় এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে এই রাজ্য বা দেশে তিনি মা হতেই চান না। তখন তার সবে সবে বিয়ে হয়েছে তিনি আরজিকর কান্ডের প্রেক্ষিতে তার স্বামী গায়ক শোভনকে বলেছিলেন তিনি এই দেশে মা হতে পারবেন না। সোহিণী প্রশ্ন তোলেন কোন দেশে মা হবেন? সন্তানকে নিয়ে এসে এই দেশে রেখে দিয়ে যাবেন? এই দেশে দুর্নীতি যতক্ষণ আছে তিনি তার সন্তানকে রেখে দিয়ে যেতে পারবেন না। আরজি কর কাণ্ড নিয়ে প্রথম দিন থেকে সরব অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। রাত দখল থেকে মিছিল ন্যায় বিচার চেয়ে প্রতিবাদের সুর চড়িয়েছেন নায়িকা তবে তার এই মন্তব্য কিন্তু মোটেও ভাল ভাবে নেননি অনেকেই। অনেকেরই বক্তব্য রাজ্যে থেকে রাজ্যকে এভাবে অপমান কি করা যায়? তাকে কটাক্ষ করতেব ছাড়েননি কুণাল ঘোষও। সোহিনী তখন ব্যস্ত ছিলেন রঘু ডাকাতের প্রচারে, সোহিনীর এক ছবি পোস্ট করে কুণাল লেখেন, বাংলায় সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা ভাবা যায় না! কিন্তু নতুন সিনেমার জন্ম দেওয়া যায়। আর তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতার আয়োজনে তার প্রমোশনে গিয়ে লম্ফঝম্ফও করা যায়। সিনেমা যখন জন্ম নিল, তাহলে বাকিটাতে নিশ্চয়ই আর সমস্যা থাকবে না। শুভেচ্ছা রঘু ডাকাত। সেই বার কালীপুজোর সময় এক নামী পত্রিকার হয়ে ফটোশ্যুট করেছিলেন সোহিনী। আলোর উৎসবে কেমন সাজ হবে, সেই টিপস দিতে দেখা গেছে নায়িকাকে। তার জেরেও কুণাল ঘোষের রোষের মুখে পড়েন নায়িকা। কটাক্ষের সুরে তৃণমূলের মুখপাত্র লেখেন, ‘এই বাংলায় দীপাবলীর মডেল কিন্তু হওয়া যায় দেখে মুগ্ধ হলাম। ভারি সুন্দর।

এরকম কটাক্ষ চলছিলই কিন্তু সোহিনী তাতে পাত্তা দেননি কোনদিনই। নিজের মত আছেন নিজের মত কাজ করছেন কিন্তু এবার তিনি ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তার মা হওয়া নিয়ে। সোহিনী এবার বললেন তিনি কি পাগল যে এ কথা বলবেন? সিপিএম, তৃণমূল কিংবা বিজেপি বলে নয়, যে লঙ্কায় আসবে সে-ই রাবণ। শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনির্বাণের অন স্ক্রিন সত্যবতী। সে যদি কৃতী হয়, তাঁকে চাকরি বা পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের রাজনীতি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। সোহিনী জানান, মাতৃত্ব একটা বোধ, যা তাঁর মধ্যেও প্রবাহিত। তিনিও মা হতে চান। তাঁর মা হওয়া নিয়ে সমাজমাধ্যমে যে বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে তা অত্যন্ত বিরক্তিকর। তার যা বয়স তাতে আজ চাইলেই কাল মা হয়ে যাবেন, বিষয়টা এমন নয়। অবশ্যই মা হতে চান তিনি তবে এটাও জানেন পরিকল্পনা করে কিছু হয় না, হবেও না। প্রয়োজনে দত্তক নেওয়ার জন্যও তিনি প্রস্তুত। অর্থাৎ তার আগেরবলা মন্তব্যকে একপ্রকার অস্বীকারই করলেন তিনি, দেখা যাক এবার কোন কটাক্ষ ধেয়ে আসে তার দিকে।