এই হামলার ফলে হচ্ছে না পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক। যুদ্ধবিরতির কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ বিরতির কথা বহুদিন ধরেই চার্চায় ছিল আন্তর্জাতিক মহলে। তবে এবার সেই যুদ্ধবিরতি যে বহুদূরে সেটা স্পষ্ট করে দিল ইউক্রেন। রাশিয়ায় ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন। রবিবার রাতে এই ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। তাদের লক্ষ্য ছিল মস্কো। কারণ ওই দিনই মস্কোতে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ক্রুজ মিসাইল বুরেভেস্তনিকের সফল পরীক্ষার দাবি করেছিল রাশিয়া। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থিত চারটি বিমানবন্দরের মধ্যে দুটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দোমোদেদোভো এবং ঝুকোভস্কি বিমানবন্দর দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এই হামলার কথা ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছে ইউক্রেন। রবিবার রাতে ১০১টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন। যার মধ্যে ৯০টি ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার ব্রায়নস্কতে ইউক্রেনের চালানো এই ড্রোন হামলার ফলে ২ জন আহত হয়েছেন। পশ্চিম বেলগোরোদে হামলার ফলে ১৬ জন আহত হয়েছেন। সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, মস্কোর দিকে ছুটে আসা মোট ১৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে রাশিয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বলছে, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে রাশিয়া। রুশ বিদেশ মন্ত্রক জানাচ্ছে, মস্কোর উপর চাপসৃষ্টি করে কোনও লাভ হবে না। এদিকে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার পর সম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা করছে রাশিয়ার লুকোয়েল তেল কোম্পানি।

প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা বহুদিন ধরেই করে চলেছেন। কিন্তু লাভ সেইভাবে কিছুই হয়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের দুই দেশের প্রধানের সঙ্গেও তিনি আলাদা আলাদা করে বহুবার বৈঠক করেন। কিন্তু তাতেই কোনও সমাধানের রাস্তা বের হয়নি। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে বসার কথা চলছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনও অর্থহীন বৈঠক করতে চান না। তিনি এই বৈঠক করে নিজের সময় নষ্ট করতেও চান না। যে বৈঠক করে দুই দেশের অন্তর্বর্তী সমস্যার কোন সমাধান হয় না সেই বৈঠক করে কোনও লাভ হবে না বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বহুদিন ধরেই দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে বৈঠকের পরিকল্পনা চলছিল। অন্তর্বর্তী কোনও জটিলতা না থাকলে এই বৈঠক সুষ্ঠুভাবেই হত। আলাস্কার বৈঠকের পর পুতিন জানিয়েছিলেন, সংঘাত থেকে সংলাপে যাওয়ার সময় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে রাশিয়া সেই পথে হেঁটেই আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বৈঠক যে হবে না সেটা স্পষ্ট করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।