‘জোর করে বিএলও !’, এসআইআর আবহে বিতর্ক রাজারহাটে

ভোটার লিস্টে এসআইআরের দায়িত্ব রয়েছে বিএলওদের উপর। কিন্তু সেই বিএলও-দের একাংশের নামই নেই সেই তালিকায়

বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়ে গিয়েছে এসআইআর। গোটা দেশজুড়ে মোট ১২টি রাজ্যে এসআইআর হবে। ইতিমধ্যেই এনুমারেশন ফর্ম ছাপানোর কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। সঠিকভাবে ভোটার লিস্টে বিশেষ নিবিড় সংশোধন করতে এরাজ্যে গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএলও-দের উপর। তার কারণ বিএলও-দের সঙ্গে এলাকার মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। ভোটার লিস্টে কোনও সমস্যা হলে সংশোধনের জন্য তাঁদের কাছেই আসে সাধারণ মানুষ। সেই কারণে বিএলওদেরকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালাবেন। এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেবেন।

এবার সেই খোদ বিএলও-দেরই নাম নেই ভোটার তালিকায়। এমন বেশ কয়েকটি উদাহরণ সামনে এসেছে। যেমন নদিয়ার শান্তিপুরের বেলগড়িয়া ১ পঞ্চায়েতের ২৬২ নম্বর বুথের বিএলও রজনীকান্ত পাল। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর এবং তাঁর পরিবারের কারোরই নাম নেই। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। শুধু এই রজনীকান্তই একা নন, আরপ্লাস নিউজের হাতে এসেছে আরও এক বিএলও-র নাম। নামও নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। শুধু তার নাম নয়, তাঁর পরিবারের নাম ও বাদ সেই ভোটার তালিকা থেকে। রাজারহাটের জ্যাংরার হাতিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বাদল হালদার। তিনি পেশায় প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক। রাজ্যজুড়ে যখন এসআইআর নিয়ে হইচই এরই মাঝে এমন অভিযোগ আসছে ভুড়ি ভুড়ি। যা নিতে রাজনীতির ময়দানে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এখন এই নিয়ে দানা বাঁধছে অনেক কটা প্রশ্ন যেমন, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকার পরেও বিএলও-র দায়িত্ব সামলাছেন কী করে? আরপ্লাস নিউজের তরফে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন আমাদের প্রতিনিধি। জোর করে বিএলও করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ওই অডিও ক্লিপে রাজারহাটের জ্যাংরার হাতিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বাদল হালদার জানাচ্ছেন, তিনি কী করে বিএলও হলেন, তা তিনি নিজেও জানেন না। তিনি জানাচ্ছেন, “আমি কি যেচে বিএলও হতে গেছি নাকি ?”

আপনার নামটা কারা পাঠাল? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানাচ্ছেন, নাম কারা পাঠায় বলুন, ” ইলেকশন কমিশনের নিজস্ব কোনও কর্মী আছে নাকি ? বিডিও অফিস, এসডিও অফিস ডিএম। বিধাননগর এসডিও অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে। আমাদের এখানে সারা বাংলায় এমন অনেক বিএলও আছেন, যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই।”  এমনও জানাচ্ছেন বাদল হালদার।