নদিয়ার চাকদায় মাটির ঘরে তল্লাশি চালালেন ইডি আধিকারিকরা। কী পাওয়া গেল?
বিশ্বজিৎ দেবনাথ, সাংবাদিক: আমরা ইডি রেড বলতে কী বুঝি। দুর্নীতির অভিযোগে বড় কোনও মাথার বাড়িতে হানা। কিন্তু ঝুপড়িতে ইডি হানা দেখেছেন। ভাবছেন এও আবার হয় নাকি। এইরকমটাই হয়েছে। ঝুপড়িতে বসে দুর্নীর্তির ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিল এক কাঠমিস্ত্রী। প্রতিবেশীরাও হতবাক। চালা ঘরে থেকে এত বড় দুর্নীতি। পুরো ঘটনা জানতে দেখুন এই রিপোর্ট তাহলেই বুঝতে পারবেন মানুষকে বোঝা দায়। নদিয়ার চাকদার পারারি গ্রাম। সকাল হতেই এই গ্রামে হাজির হয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। গাড়ি নিয়ে সোজা হাজির বিপ্লব সরকার নামে এক কাঠমিস্ত্রীর বাড়িতে। গাড়ি থামতেই আধিকারিকরা নেমে সোজা ঢুকে যান বিপ্লবের মাটির ঘরে। শুরু হয় মাটির ঘরে তল্লাশি। ততক্ষণে উৎসুক প্রতিবেশীরা ভিড় জমিয়েছেন। কী দুর্নীতি করেছে যে পাড়ার ঠেলেটার বাড়িতে বড় অফিসাররা এসে হাজির। এই প্রশ্ন নিয়েই সবাই জেরবার। ভারতে বসে নাকি এই বিপ্লবের আঁতাত হয়ে উঠেছিল পাকিস্তানি নাগরিক আজাদ মল্লিকের সঙ্গে। যে এখন জাল পাসপোর্টকাণ্ডে ধৃত।

আজাদের সূত্র ধরে উঃ ২৪ পরগনা ও নদিয়ার গেদে সীমান্ত এলাকার বিস্তীর্ণ তল্লাশি চালিয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই নদিয়া থেকে ইন্দুভূষণ হালদার নামে এক অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়। আজাদ মল্লিকের ভারতীয় পাসপোর্ট রিনিউ করে দিয়েছিলেন ইন্দুভূষণ। এই ইন্দুভূষণের সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল বিপ্লবের। সূত্রের খবর ইন্দভূষণের চাকদহের ক্যাফে থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো ভুয়ো পাসপোর্টের আবেদন করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই বিপ্লব সরকারের বাড়িতে ইডি হানা দেয়। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হিসাবে কাজ করে বিপ্লব সরকার। পাশাপাশি নকল সচিত্র পরিচয়পত্র তৈরির কাজও চালাত। যদিও পাড়া প্রতিবেশীরা ঘুণাক্ষরে টের পায়নি। এলাকায় উপকারী ছেলে হিসাবেই পরিচিত ছিল। অনেককেই পাসোপোর্ট করেও দিয়েছে। কেউ বিশ্বাস করতেই পারছেন না বিপ্লব সরকার এমন করতে পারে। নদিয়ার চাকদার পারারি গ্রামে খেটে খাওয়া মানুষের বাস। পাড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, অফিসারদের ঢুকতে দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। রান্নাবান্না বন্ধ করে কী হয়েছে তা জানার জন্য ভিড় করেছিলেন বিপ্লব সরকারের বাড়ির সামনে।

বিপ্লব সরকার ও তার দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে ইডি আধিকারিকরা। বিপ্লব সরকারের পাসপোর্ট ট্রাভেল হিস্ট্রি এবং তাঁর যাবতীয় ব্যাঙ্ক ট্রানজাকশন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসাররা। পরিবারের সদস্যদের নথি, পাসপোর্ট খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।দেখা হচ্ছে তাদের ট্রাভেল হিস্ট্রি। মোবাইলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এখন দেখার তদন্তে কী উঠে আসে? পাড়ার ভালো ছেলে কতটা দোষী? সেটাই এখন দেখার।