সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। দুই সঙ্গীতশিল্পীর কথা কাটাকাটি চরমে উঠল।
মৌসুমী সাহা, সাংবাদিক: ১ নভেম্বর টালিগঞ্জের বিজয়গড় সংলগ্ন একটি ক্লাবের পঞ্চাশ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে দুই সঙ্গীতশিল্পী পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় ও জোজো মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। ঘটনা সেখানেই শেষ নয়, বাড়ি ফিরে সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন জোজো।দিনশেষে পৌষালীও ছেড়ে দেবার পাত্রী নন।

জোজো রাত একটা নাগাদ একটা পোষ্ট করেন ,প্রায় ১৮ মিনিটের এই ভি়ডিওটিতে চোখে মুখে ছিলো খুব বিরক্তি ।সেই বিরক্তির কারণ জনপ্রিয় ফোক গানের শিল্পী পৌষালী । শিল্পীর নাম উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সঙ্গীত দুনিয়াটা খুব ছোট। সকলকেই কমবেশি অ্যাডজাস্ট করতে হয়। পৌষালির টিম আমাদের সঙ্গে অসভ্যতা করেছে ।আমার টিমের সদস্যরা আগে গিয়ে সাউন্ড চেক করে রেস্টরুমে চলে যায়। এইসময় পৌষালী ও তাঁর টিমের সদস্যরা আসেন এবং আমাদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের বাদ্যযন্ত্র সরিয়ে দেয়। আমাদের না জানিয়ে এমনটা করেছে, এটা একপ্রকার অসভ্যতা। ওদের উচিত ছিল আমাদের বলা। এই অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।এভাবে কারও অনুমতি ছাড়া মঞ্চ থেকে বাদ্যযন্ত্র সরানো যায় না।জোজো আরো বলেন মঞ্চটা কারো বাবার না ।এমনকি তিনি বলেন সেদিনের অনুষ্ঠানটা করার কোন ইচ্ছে তার ছিলনা ,কেবল উপস্থিত দর্শকদের জন্য অনুষ্ঠানটি তিনি করেন।আজ এত বছর ধরে আমি একজন সঙ্গীতশিল্পী। নিজের পরিশ্রমে নিজের জায়গা তৈরী করেছি অনেক কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে। কলকাতা শহরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আমি অনুষ্ঠান করিনি। আজও সেভাবেই একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে আমার সঙ্গে যা হয় তার পরিপ্রক্ষিতে এত রাগ বোধহয় আমার আগে কারও উপর হয়নি। আমার জুনিয়রদের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তবে ব্যতিক্রমীও অনেকে আছেন।”তার সাঙ্গীতিক কেরিয়ারে এমন অনেক শিল্পীকে তিনি উঠতেও দেখেছেন আবার শেষ হতেও দেখেছেন তাই তার একটাই বক্তব্য এতো অহংকার ভালো নয়।মঞ্চে উঠে দু চার কথা বলার পাাশাপাশি সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন শিল্পী।রীতিমতো এর ফল ভালো হবে না বলে জেহাদ ঘোষনা করেন ।এমনকি অরগানাইজার দেরও সতর্ক করে দেন তারাও যেন বিষয়টি মাথা রাখেন ।এমনকি পরবর্তীতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে খারাপ হবে । জোজো তার নাম তিনি তা মেনে নেবেন না।
এই ভিডিওটির পর কমেন্ট বক্সে নানান অভিমতের দেখা মিলেছে ” জিভে লাগাম দিন,আপনি সিনিয়ার ,আপনার ভাষা ,আপনার ধৈর্য ,আপনার পরিচয়,শিল্পীর পরিচয় তার শিল্পতে,বয়স হয়েছে,এত রাগ শরীরের জন্য ভালো নয়,পুরোনোদের থেকেই নতুনরা শিখবে,আপনি কি এই শিক্ষা সমাজে রেখে যাচ্ছেন,এটা আপনার সাথে পৌষালীর কোনো মতবিরোধ নয়,মিউজিসিয়ানদের ভুল বোঝাবুঝি,সেটাতে আপনি এই ভাবে রিয়াক্ট করলেন কি ভাবে,আর একজন শিল্পীর প্রতি,এটা কি আপনাকে মানায় ।কুল ডাউন হয়তো ছোট্টো পৌশালী বড় হয়ে উঠেছে, আরো বড় হয়ে উঠবে ,ভালবাসা দিন,আপনি বড়,দেখবেন ওর আমায়িকতা আপনাকে ছোটো না করে দেয় আঙ্গুল টা নামিয়ে আর হাত নামিয়ে কথা বলুন,আপনি একজন শিল্পী কোনো রাজনীতিক নন, সম্ভ্রমের পরিচয়টা রাখুন,রাগটা কমান, বাংলা বলুন, হিন্দি আর ইংরেজি না বললেও সব ভাষার মানুষ আপনার অভিব্যক্তি দেখে বুঝতে পারবে আপনি কি বলতে চাইছেন”। কেউ বলছেন এতো ইগো ভালো নয়।কেউ বলছেন আপনার বড্ড ঔদ্ধত্য। আবার কিছু এমন মতামত দেখা গেছে যেখানে জোজোকে সাপোর্ট করেছেন।
জুনিয়ারদের ও জবাব দেবার অধিকার আছে বলে ভিডিও করেন পৌষালী।এর পর জবাব দিতে দেখা যায় পৌষালীকে ,সিনিয়ার আর্টিষ্ট জোজোকে সম্মান জানিয়ে সত্যি সামনে আনার জন্য ভিডিওটি করতে বাধ্য হন তিনি ।মানুষ পোষ্টমর্টেম করলে দুপক্ষের কথা শুনে করুক ।আমি জুনিয়র আর্টিস্ট, কিন্তু পেশাদারিত্ব আমি সিনিয়রদের কাছ থেকেই শিখেছি। বাদ্যযন্ত্র সরানোকে কেন্দ্র করেই এই বিবাদ । কিন্তু ঠিক কি ঘটেছিলো ।তাদের আগে অনুষ্ঠান করার কথা ছিলো আর জোজোর পরে ।যারা পরে অনুষ্ঠান করেন তারাই সাউন্ড চেক আগে করেন সেই মতন জোজোদির টিমের সদস্যরা যেই সময় সাউন্ড চেকের জন্যে ডাক পেয়েছিলেন, সেই সময়মতো উপস্থিত হয়নি তাদের পৌছতে একটু লেট হয়েছিলো। আমাদের ওপর চাপ আসতে থাকে, তাড়াতাড়ি করো। আমার টিমের সদস্যরা সব সময় নির্দিষ্ট সময়ের আগে পৌঁছে যান। এদিনও তাই করেছিলেন।” তবে বিবাদ ঘটে অন্য কারণে। জোজোর টিম সাউন্ড চেক করে মঞ্চ ছাড়লে, পৌষালীর টিমের সদস্যদের কিছু সমস্যা দেখা দেয়। মঞ্চে জায়গার সামান্য অভাব থাকায়, তাঁর টিমের এক সদস্য অনুরোধ করে জোজোর টিমের সদস্যকে বাদ্য যন্ত্রটি সামান্য সরিয়ে দিতে।রাজি হয়নি জোজোর দলের সদস্যরা পৌষালীর দলের সদস্যরা তা সামান্য সরাতে না চাওয়ায় গোল বাধে।, আর তাতেই নাকি মেজাজ হারান জোজো।জোজোদি’র টিম যখন আমাদের অনুরোধ শোনে না, একটু কথা কাটাকাটি হয়। এবং আমরা মঞ্চের উপর দাঁড়াতে পারছি না সঠিকভাবে তখন বাধ্য হয়ে ক্লাবের সদস্যদের উপস্থিতিতে আমরা দেড় ফুট থেকে দু’ফুট মতো সরাই ওই বাদ্যযন্ত্রটি। এবং এই পুরো বিষয়টাই একেবারে ভুলভাবে দিদির কাছে ব্যাখ্যা করা হয়। আমার অনুষ্ঠান শেষে জোজোদি মঞ্চে উঠে মাইকে সকলের সামনে এটা নিয়ে বলেন। আমি সিনিয়রদের কাছে নত হয়ে থাকতেই ভালোবাসি। কিন্তু যে ভুল আমি করিনি তার দায় আমি নিতে পারব না। প্রয়োজন হলে আমি এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে দেব।”জুনিয়ার হলেও উশৃঙ্খল নই,পেশাদারিত্ব শিখছি এখনো বডদের থেকে শিখছি সবটাই তবে ভাগের সত্যিটা জানাতে এই ভিডিও ।বিচার দর্শকরা করবেন।
প্রকৃত ভদ্রতা বলে একেই যা তোমার কথার মধ্যে প্রকাশ পেলো। খুব ভালো লাগলো। তুমি তোমার মতো করে এগিয়ে চলো। আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো তোমার জন্য।হয়ত তুমি হাততালি বেশী পেয়েছিলে তা উনি সহ্য করতে পারেননি এমনও লিখেছেন কেউ কেউ।পৌষালীর ভদ্র ভাবে প্রতিবাদ করাকে এপ্রিসিয়েট করেছেন কেউ কেউ।আবার কেউ বলেছেন তোমরা গান করো না কলতলার ঝগড়া ? কি অবস্থা | এই রকম মানসিকতা থাকলে গানে কনসেনট্রেট করো কিভাবে ? জোজো ম্যম এর টাও শুনলাম | কি অবস্থা | ছি!
সবমিলিয়ে সমাজমাধ্যম ছয়লাপ দুই শিল্পীর কথোপকথনে।