বাড়িতে বিএলও এলে কী করবেন ?

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই ? বিএলও বাড়িতে এলে কী করবেন ? এই ভেবে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ?

রিয়া দাস, সাংবাদিক :  বাংলায় শুরু এসআইআরের প্রথম ধাপ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে ব়াজ্যের প্রতিটি এলাকায় বুথ স্তরের অফিসাররা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করছেন। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, হুগলি, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, বসিরহাট সর্বত্রই এক ছবি ধরা পড়েছে। সকাল থেকে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়ছেন বিএলওরা। তাঁরা হাতে তুলে দিচ্ছেন এনিউমারেশন ফর্ম। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এনুমারেশন ফর্ম বিলি। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে এনুমারেশন ফর্ম। এখন অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বাড়িতে এসে কী চাইবেন বিএলওরা ? তাঁরা কি জেরা করবেন বাড়ির লোককে ? নাকি অনেক নথি চেয়ে বসবেন? কি করবেন বাড়িতে বিএলওরা এলে ? জেনে নিন সবটাই-

. দিনের যে কোনও সময় বিএলওরা আপনার বাড়িতে আসতে পারেন

 কারণ এখনও পর্যন্ত তাঁদের অন ডিউটি দেওয়া হয়নি

 নিজ কর্মস্থলের কাজ সেরে তাঁরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাবেন

 যখন বিএলআরওরা আপনার বাড়িতে আসবেন এনুমারেশন ফর্ম দেবেন তারা

 এই ফর্মে আপনাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, জন্ম তারিখ

 মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ইত্যাদি সঠিকভাবে লিখতে হবে

. যদি আপনার বাড়িতে কেউ ১৮ বছর পূর্ণ বা হতে চলেছে

  তা-হলে সেই ব্যক্তির জন্য আলাদা ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে

. পরিবারের যদি কেউ মারা গিয়ে থাকেন বা অন্যত্র চলে যান

  বিএলওদের সেই তথ্য জানাতে হবে তালিকা থেকে নাম অপসারণের জন্য

. ভোটার তালিকায় আপনার নাম থাকলে তবেই এনিউমারেশন ফর্ম পাওয়া যাবে

  সংশ্লিষ্ট ভোটার মারা গিয়ে থাকলে তাঁর নামেও এনিউমারেশন ফর্ম আসবে

. বিবাহ সূত্রে যদি ২০০২-এর পরে কোনও মহিলার

  ঠিকানা বদল হয়, সেক্ষেত্রে নিজের বাবা-মায়ের

  নামের লিঙ্কেজ ও ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেখালেই হবে

. যদি আপনি বাড়িতে না থাকেন

  বিএলওরা অন্তত তিনবার চেষ্টা করবেন যোগাযোগের জন্য

  যদি তাও সম্ভব না হয়, বাড়ির দরজায় নোটিস বোর্ডে বার্তা রেখে যাবেন

. ফর্ম হাতে পাওয়ার পর, আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ করতে হবে

  পূরন করে বিএলওদের কাছে জমা দিতে হবে

. ফর্ম নেওয়ার সময়ে জেনে নিন বিএলও কবে তা জমা নিতে আসবেন

  তাঁর মোবাইল নম্বরটা রেখে দিন নিজের কাছে

. ২০০২-এর ভোটার তালিকায় আপনার নামের ম্যাচিং থাকলে আর কিছু লাগবে না

 না থাকলে কমিশনের বলে দেওয়া নথি হাতের কাছে সংগ্রহ করে রাখুন

. ফর্ম পূরণের সময় কিছু কাগজপত্র রাখতে হবে যাচাইয়ের জন্য

 ফর্মের সঙ্গে নিজের নথি দিতে পারেন, তবে সেটা  বাধ্যতামূলক নয়

 জন্ম সার্টিফিকেট, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড, বিদ্যুৎ বিলের প্রমাণ

. ফর্ম দিতে গেলে বিএলওরা বাড়ির ছবি তুলবেন

  তাই আপনার চিন্তার কিছু নেই

  আপনাকে এনুমারেশন ফর্ম তুলে দেওয়র দায়িত্ব বিএলওদের

. ECINET- অ্যাপে সরাসরি বিএলওদের সঙ্গে

 যোগাযোগের জন্য “BOOK A CALL WITH BLO’ করতে পারেন

 আপনার কোনও প্রশ্ন বা অভিযোগ জানাতে চাইলে

 [email protected]এ যোগাযোগ করতে হবে

. যে কোনও প্রয়োজনে চালু থাকছে নির্বাচন কমিশনের

  টোল ফ্রি সেন্ট্রাল হেল্পলাইন নম্বর-1800-11-1950

  সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ফোন করতে পারেন

বিএলও সব ফর্ম সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেবেন। ডিজিটালভাবে যাচাই করে ড্রাফট ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকা প্রকাশের পর যদিও কারও নাম  বাদ যায় বা ভুল থাকে তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সংশোধনের আবেদন করা যাবে। সব যাচাই করে শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই প্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভোটার তালিকা সঠিন না থাকলে অনেক সময় যোগ্য ভোটার ভোট দিতে পারেন না। আবার কিছু ক্ষেত্রে মৃত বা অযোগ্য নামও তালিকায় থেকে যায়। তাই এই এনুমারেশন প্রক্রিয়া প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া মানেই ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো নাগরিকের নাম আগাম নোটিশ ছাড়া বাদ দেওয়া হবে না। প্রত্যেকে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন।