KIFF: জৌলুস হারাচ্ছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ?

মমতার সঙ্গে দূরত্ব অমিতাভের! মনোমালিন্যের জেরে থাকবেন না শাহরুখও? চলচ্চিত্র উৎসবে কি কমছে বলিউডের গ্ল্যামার!

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব মানেই নন্দনে গ্ল্যামারের ছটা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারকাদের মেলা বসে, বলিউড টলিউডের শিল্পীরা মঞ্চ আলো করে বসে থাকেন, টলিউডের কথা যদি বলা যায় সেক্ষেত্রে যারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালোবাসেন যারা ২১ জুলাই হোক বা পুজো কার্নিভাল সব জায়গায় থাকেন তারা উপস্থিত থাকবেনই আবার অন্যদিকে বলিউডের তরফে যারা থাকেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, শত্রুঘ্ন সিনহা সহ আরো একাধিক পরিচিত মুখ। ২০২৪ সালে যেমন ছিলেন জাভেদ আখতার, শাবানা আজমিরা, বিশেষ অতিথি পাবলো জাস্টিনো সিজার ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, সব্যসাচী চক্রবর্তী, দেব, দুলাল লাহিড়ীর মতো অভিনেতারা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের মঞ্চে। ২০২৩ সালে চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন সলমন খান, অনিল কাপুর মহেশ ভাটের মতো বলিউডের তারকারা। যদিও সেইবার শাহরুখ খান ছিলেন না। টলিউডের মানুষ জনও কিন্তু কম থাকেন না, প্রায় প্রতিবছরেই পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী চক্রবর্তী, লিলি চক্রবর্তী, রঞ্জিত মল্লিক, অঞ্জন দত্ত, সব্যসাচী চক্রবর্তী, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় দেব অধিকারী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কোয়েল মল্লিক, মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহান, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোহম চক্রবর্তী এবং আরও অনেকে মঞ্চে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই এখনও পর্যন্ত জানা গেছে। কিন্তু বলিউডের তরফে কারা কারা থাকবেন এবার তা এখনও অবধি জানা না গেলেও, অমিতাভ এবং শাহরুখ অর্থাৎ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল গেস্ট বলতেই যাদের নাম ভেসে আসে তারা এবারেও থাকছেন না। গত বছর ২-৩ও তাদের দেখা যায়নি, তাদের জায়গায় অন্যান্য একাধিক পরিচিত মুখ মমতার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছিলেন। এবার ৩১তম বর্ষ। এই বছর চলচ্চিত্র উৎসবে এ বছর দেখানো হবে মোট ১৮৫টি ফিচার ফিল্ম, ৩০টি শর্ট ফিল্ম এবং ৩৫টি ডকুমেন্টারি ফিল্ম। তালিকায় রয়েছে ১৮টি স্থানিয় ভাষা ও ৩৯টি বিদেশি ভাষার ছবি। এবারের মোট জমা পড়েছিল ১,৮২৭টি ছবি, যার মধ্যে থেকে ৩৯টি দেশের ও ২১৫টি বিদেশি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে প্রদর্শনের জন্য।কার্যত দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে এই বছরের চলচ্চিত্র উৎসব। প্রস্তুতি একেবারে শেষ মুহূর্তে এবারের ট্যাগলাইন চলচ্চিত্র মেলায় বিশ্ব। প্রতি বারের মতো এই বছরও বিশেষ অনুষ্ঠান করতে দেখা যাবে নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়কে। উদ্বোধনী ছবি হিসাবে দেখানো হবে অজয় কর পরিচালিত উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ১৯৬১ সালের ছবি সপ্তপদী।উদ্বোধনের দিন সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকবেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং জুন মালিয়া। এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে শোলে সিনেমার পঞ্চাশবছর পূর্তি উদযাপন করা হবে। বেঙ্গলি প্যানোরমায় দেখানো হবে ঋত্বিক ঘটকের ‘কোমলগান্ধার’, ‘সুবর্ণরেখা’-সহ ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘পিঞ্জর’-এর মতো ছবিগুলি। এবারের ফোকাস কান্ট্রি পোল্যান্ড। শতবর্ষ উপলক্ষে শ্রদ্ধা ঋত্বিক ঘটক, গুরু দত্ত, সন্তোষ দত্ত, সলিল চৌধুরীকে। বিশেষ সম্মান জানানো হবে শ্যাম বেনেগাল, ডেভিড লিঞ্চ, অরুণ রায়, রাজা মিত্র এবং শশী আনন্দকে। তবে স্বাভাবিক ভাবেই একটা জল্পনা চলছে বলিউডের কারা কারা এইবারে মঞ্চ আলো করে থাকতে চলেছেন? অনেকেরই প্রশ্ন এইবার কি থাকবেন অমিতাভ বচ্চন কিংবা শাহরুখ খান? কারণ এই দুজনের সঙ্গে বাংলার একটা ভালোমত যোগ সূত্র রয়েছে। অমিতাভ বচ্চন হলেন বাংলার জামাই তাই বাংলার বুকে এতবড় একটা অনুষ্ঠান হলে স্বাভাবিক ভাবেই তার উপস্থিতি চান অনেকেই আবার অন্যদিকে শাহরুখ বাংলার ব্র্যান্ড এম্বাসাডর হিসাবে কাজ করেছেন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডারসের মালিক তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দারুণ সম্পর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো শাহরুখ খানকে ঘরের ছেলেই বলেন। প্রতি বছর তাই চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বাদশা’র উপস্থিতি অনেকটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল দর্শকের। কিন্তু কোথাও গিয়ে কি এই সম্পর্কে চিড় ধরল? কেন বিগত কয়েক বছর তারা নেই এই মঞ্চে? তবে হ্যাঁ ২০২৪ সালের চলচ্চিত্র উতসবের বিষয়টা আলাদা কারণ গত বছর আরজিকর কান্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছিল দেশ রাজ্য কিন্তু এইবার? থাকবেন তারা? উল্লেখ্য শেষবার ২০২২ সালে ২৮ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চ, অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন, শাহরুখ খানকে দেখা গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গিয়ে মঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন শাহরুখকে। সেই বছর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শাহরুখের সঙ্গে বিরবাহার পরিচয় করিয়ে দেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বিরবাহা শাখরুখকে বলেন, জঙ্গলমহলের পাহাড়-জঙ্গল-প্রকৃতির মাঝে হিন্দি ছবির সেট ফেলা হলে স্থানীয় অর্থিনীতি সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি, কম খরচে শ্যুটিং করার সুযোগও মিলবে। সেই স্বল্প আলাপচারিতার মাঝে উৎসবের উদ্বোধক অমিতাভ বচ্চনকেও জঙ্গলমহলে আসার আমন্ত্রণ জানান বিরবাহা। এই বছরের আমন্ত্রিত তালিকা ঘিরে এত লুকোচুরি কেন? কেনই বা অনুষ্ঠানের দিন দুই আগেও বিষয়টা স্পষ্ট হচ্ছে না? কোথাও গিয়ে কি বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এইরকম হচ্ছে? যদিও বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে বিষয়টা একেবারেই এরকম নয় আসলে কারা আমন্ত্রিত সেটা এখনও তৃণমূলের অনেকের কাছেই সারপ্রাইজ। তাই তারাও কাউকে এখনই কিছু জানাতে পারছেন না তবে নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল একটুও ভাবিত নয় কারণ তৃণমূলের প্রত্যেকে ভীষণ মনোযোগী ছাত্র। ফলে দলের অন্দরেই এখনও ধোয়াশা কারা কারা অতিথি হিসাবে থাকবেন এবার। অন্যদিকে ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা অমিতাভ বচ্চনকে ভারতরত্ন দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন।এর পরে ২০২৩ সালে কিন্তু অমিতাভ বচ্চনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেইবার মুখ্যমন্ত্রীর হাজার অনুরোধ সত্ত্বেও থাকেননি অমিতাভ বচ্চন। সেই বছর অগস্ট মাসে অমিতাভ বচ্চনের আমন্ত্রণে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনই জানা গিয়েছিল, অমিতাভকে সস্ত্রীক কিফে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছেন মমতা। প্রাথমিক ভাবে সেই অনুরোধে সাড়া দিলেও পরে যদিও অমিতাভের মুখে অন্য সুর শোনা গিয়েছিল আসেননি অমিতাভ কারণ দেখিয়েছিলেন অসুস্থতার, অন্যদিকে শাহরুখকেও গত ২ বছর দেখা যায়নি, আর তখন থেকেই চলছে জল্পনা তাহলে কি মমতার সঙ্গে মনোমালিন্য বিগ বি এবং বাদশার? মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের দূরত্ব বেড়েছে কি? কারণ এই বছরেও তারা আসছেন না এখনও অবধি কিন্তু এমনটাই জানা যাচ্ছে। নাকি যেহেতু তারা বহুবার এসেছেন এই অনুষ্ঠানে তাই আর দেখা যাচ্ছে না তাদের। তবে শেষ মুহূর্তে এই সব হিসেব কিন্তু বদলে গেলেও যেতে পারে। আসলে কি হতে চলেছে? সেই উত্তর তো মিলবে চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনই মঞ্চে।