বিধায়ক-পত্নী হয়েও লক্ষ্মীর ভান্ডার চাইছেন? আবেদন ফর্ম সামনে আসতেই ঘটল বিপত্তি

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক: কাঞ্চন-শ্রীময়ী মানেই যেন বিতর্ক, তাদের সম্পর্ক থেকে শুরু করে বিয়ে, বিয়ের রিসেপশনে সংবাদ মাধ্যম গাড়িচালকদের প্রবেশ নিষেধ এই কথা লেখা, হানিমুন সন্তানের জন্ম এই গোটা অধ্যায়েই সঙ্গী হয়েছে তুমুল ট্রোলিং তুমুল বিতর্ক। কেউ যেন এখনও মানতে পারেন না প্রায় মধ্যবয়সী কাঞ্চনের কোলে এক বছরের সন্তান, কিংবা তার হাঁটুর বয়সী মেয়ে তার স্ত্রী, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের পোস্টে কমেন্ট দেখলেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। নেটিজেনদের কটাক্ষ থেকে বাদ যায় না তাদের ফুটফুটে কন্যা সন্তান কৃষভিও।

চলুন একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক। ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ডিভোর্স হয় কাঞ্চন মল্লিকের। তারপরই ১৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীময়ীর সঙ্গে আইনি বিয়ে সারেন কাঞ্চন । সব রীতি মেনে বিয়ে হয় ২ মার্চ। ৬ মার্চ পার্কস্ট্রিটের একটি ব্যাঙ্কোয়েটে বসেছিল কাঞ্চন-শ্রীময়ীর রিসেপশনের পার্টি আর সেখানেই বিপত্তি। বিয়ে এবং রিসেপশনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি চাইছেন না কাঞ্চন-শ্রীময়ী, সেটা তাঁরা আগে জানিয়েছিলেন। তবে রিসেপশনের অনুষ্ঠানে তাঁদের লিখিত নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় সমালোচনা। পার্ক স্ট্রিটের ওই ব্যাঙ্কোয়েট হলে ঢোকার মুখেই একটি বোর্ডে ইংরেজি হরফে লেখা ছিল প্লিজ, প্রেস অ্যান্ড পার্সোনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ড্রাইভার্স আর নট অ্যালাউড’। যে বাক্যের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, দয়া করে সাংবাদিক, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং গাড়ির চালকের প্রবেশ নিষেধ। এই বিষয় সামনে আসতেই তাদের বয়কট করার ডাক ওঠে রীতিমতো, বিপাকে পড়ে মুখ খোলেন তারা বলেন তারা একেবারেই এটা করেননি তাদের কাছে তো সাংবাদিকেরাও মানুষ, গাড়ির চালকেরাও তারা শুধু চেয়েছিলেন খানিকটা গোপনীয়তা বজায় রাখতে। কিন্তু ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। সেই কারণেই হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, আমরা সাংবাদিক, নিরাপত্তারক্ষী এবং গাড়ির চালকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখতে চান যদিও তাতে কেউ খুব একটা গলে যাননি।

তাদের বিয়ের সময়ে কাঞ্চনের প্রাক্তন স্ত্রী পিংকি জানিয়েছিলেন তাঁর কাঞ্চনকে বিয়ে করা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত, সেই সময় তিনি আফসোস করেছিলেন আর একটু সময় নিয়ে বিয়ে করা উচিত ছিল তার। কারণ কঠিন সময়ে পড়লে তবেই এক জন মানুষ আর এক জন মানুষকে চিনতে পারে। তবে কাঞ্চন মল্লিককে শুভেচ্ছা জানাতেও ভোলেননি তিনি। এর পর থেকেই তারা কিন্তু কন্ট্রোভারসির শিরোনামে ছিলেন। এরপর জুলাই মাসে তারা হানিমুনে যান, মালদ্বীপ থেকে শেয়ার করে নেন নিজেদের উষ্ণ মুহূর্তের বিভিন্ন ছবি, নাহ এই সব ছবিও বাদ যায়নি ট্রোলারদের নজর থেকে তৈরি হয়েছে একের পর এক মিম, সেই বছরেই লক্ষ্মীপুজো নাগাদ জানা যায় শ্রীময়ী অন্তঃসত্বা, প্রায় ৫৩ বছরে আবার বাবা হতে চলেছেন কাঞ্চন, কম হাসাহাসি কম আলাপ আলোচনা হয়নি তাই নিয়ে, বিয়ের ৮ মাসের মধ্যেই নবদম্পতির কোল আলো করে এসেছিল খুদে সদস্য। আর তার কিছুদিনের মধ্যেই জানা যায়, মালদ্বীপে আসলে হানিমুন নয় বরং ওটা ছিল কাঞ্চন শ্রীময়ীর বেবিমুন, সে সময় পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন অভিনেত্রী। তারা যখন বিমানে করে যাচ্ছিলেন সেই সময় বিমানের তরফে বিশেষ যত্ন করে সেই বিমান সংস্থা।নিজেই একটি ছবি শেয়ার করে শ্রীময়ী লিখেছেন, “আমি যখন পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিলাম, বেবিমুনে মালদ্বীপ যাওয়ার সময়। এই উপহার পেয়েছিলাম…।”

লাল রঙের বিকিনি পরে নিজের রুমের সামনে থাকা পুলের জলের যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন সেখানে শ্রীময়ীকে দেখা গিয়েছে সমুদ্রের দিকে পিঠ করে পুলের জলে। দুধ সাদা পিঠ থেকে নজর সরানো বেশ মুশকিল। শ্রীময়ী একা নন, বর কাঞ্চনকে নিয়েই স্যুইমিং পুলের জলে নেমেছেন তিনি। মলদ্বীপে হানিমুন যে দারুণভাবে উপভোগ করেছিলেন শ্রীময়ী-কাঞ্চন তা বলাই বাহুল্য। এরপর ঘর আলো করে কন্যা সন্তান আসে, কিন্তু মেয়ে একটু বড় হতে যখন তার ছবি পোস্ট করেন কাঞ্চনরা তখন তাকেও কিন্তু রেহাই দেওয়া হয়নি, যা একদমই মানা যায়না। কেন বলুন তো যে বাচ্চাটা এখনও কিছুই বোঝে না তাকেও কেন এইভাবে ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হবে? যদিও মেয়েকে নিয়ে নিজেদের মত করে দিন কাটাচ্ছিলেন তারা, কিন্তু ছেলে ওশ? তাকে মিস করেন না কাঞ্চন? শ্রীময়ী বলেছিলেন তিনি হয়তো ওশকে গর্ভে ধারণ করেননি। কিন্তু ওশ তো তারও সন্তানসম। তার কাছে কৃষভি যা, ওশ-ও তাই।ওশ কোনও দিন যদি কাঞ্চনের কাছে এসে দাঁড়ায়, থাকতে চায় আমাদের কাছে, ‘তৃতীয় ব্যক্তি’ হয়ে বাধা দেব না সঙ্গে কাঞ্চন যে ছেলেকে খুব মিস করে, তাও জানাতে ভুললেন না। যদিও পিংকি বলেছিলেন ঠিক আছে, ধন্যবাদ ওঁর মহান উক্তির জন্য। ওশ বাবাকে মিস্ করে না। আমরা চাই ওঁরা খুব ভাল থাকুন। যতটা ভাল থাকা যায়। আর আমার সঙ্গে খারাপ কিছু হয়নি। যা হয়েছে, ভাল হয়েছে। তবে এবার নতুন বিতর্কে কাঞ্চন-শ্রীময়ী। দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ৩ নভেম্বর কন্যাসন্তানের বাবা হন কাঞ্চন। স্ত্রী শ্রীময়ীর জন্য সেই বেসরকারি হাসাপাতালটি বিল করে ছ’লক্ষ টাকা। সেই বিলও মিটিয়ে স্ত্রী-কন্যাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিধানসভা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সমস্ত তথ্য ও নথিসমেত বিধানসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভাগে বিলটি জমা দিয়েছেন উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক। সেই নিয়ে তো বেশ বিতর্ক হয়েছিল এবার জানা গেল বিধায়ক পত্নী হয়েও নাকি লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য আবেদন করেছেন শ্রীময়ী, বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত মজুমদারের একটি পোস্ট ঘিরে এই বিতর্ক শুরু। স্বামী বিধায়ক। মোটা টাকা ভাতা পান সঙ্গে তিনি টলিউডের সফল অভিনেতা, আজকাল বলিউডেও কাজ করছেন। তারপরও লক্ষ্মী ভাণ্ডারের ১ হাজার টাকা পেতে ফর্ম ভরেছেন শ্রীময়ী চট্টরাজ! হ্যাঁ,মঙ্গলবার উত্তরপাড়ার বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই বিস্ফোরক দাবি করেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। এই প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে বালুরঘাটের সাংসদ ভোলেননি ৬ লক্ষ টাকা বিলের প্রসঙ্গও। চুপ না থেকে শ্রীময়ীর স্পষ্ট জবাব কোথায় লেখা আছে বিধায়কের স্ত্রী হলে সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে না? লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য তিনি অনেক দিন আগে আবেদন করেছিলাম। তখনও আমার বিয়ে হয়নি। তখন তো আর জানতেন না, কাঞ্চন বিধায়ক হবে বা আমার ওর সঙ্গে বিয়ে হবে! ২০১৮ সালে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর আবেদন করেছিলেন তিনি। তখন অভিনেত্রী থাকতেন উত্তর কলকাতায়। তার পর সেখানে কিছু সমস্যা হওয়ায় লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা তিনি পেতেন না, জানিয়েছেন শ্রীময়ী। বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ে না তাদের।