১৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন’-এর ডাক আওয়ামী লীগের

হাত গুটিয়ে বসে নেই আওয়ামী লীগ। ময়দানে মাটি কামড়ে লড়াই করছেন সমর্থকেরা। বাংলাদেশের একাধিক জায়গায় আওয়ামী লীগের মিছিল।

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: ১৩ নভেম্বর, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা করবে আদালত। ট্রাইবুনালের বিচারপতি গোলাম মোর্তূজা মজুমদার গত মাসে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ তিন জনের সাজা ঘোষণার সম্ভাবনা ১৩ নভেম্বর। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম আদালতে জানান, কোটা বিরোধী আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তাই হাসিনার মৃত্যুদন্ড হবে অন্যতম সাজা। শেখ হাসিনার ১৪০০ বার ফাঁসি হওয়া দরকার।

এই পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে নেই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। তারা একেবারে ময়দানে মাটি কামড়ে থেকে লড়াই করছে। বাংলাদেশের একাধিক জায়গায় দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের মিছিল। হাজার হাজার আওয়ামী লীগ সমর্থক সেই মিছিলে যোগও দিচ্ছেন ভয়, গ্রেফতারিকে উপেক্ষা করে। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা সাজা ঘোষণার আগেই আরো বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১০ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। আর ১৩ নভেম্বর ঢাকায় লকডাউন ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। ওই দিন ঢাকায় অফিস-আদালত, দোকানপাট, যানবাহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ রেখে প্রতিবাদে অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের তরফে। সেই লক্ষ্যে সামাজ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারও চালাচ্ছেন আওয়ামী নেতা-কর্মীরা। সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাসিনার দলরে বক্তব্য,দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার, ইউনুসের পদত্যাগ এবং অবৈধভাবে পরিচালিত আই.সি.টি আদালত বন্ধ করতে হবে।

আওয়ামী লীগের এক নেতার কথায়, এবার তারা ধর্মঘট শব্দ ব্যবহার না করে লকডাউন শব্দটি ব্যবহার করছেন। কয়েক বছর আগে করোনা মহামারির সময় যেমন লকডাউন দেখেছিল বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। স্তব্ধ হয়েছিল জনজীবন। চারিদিকে নেমে এসেছিল নীরবতা, নিস্তব্ধতা। এবার তারা প্রতিবাদ হিসেবে মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। এটি হবে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চরম দিন।

আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বক্তব্য, জঙ্গি, মব সন্ত্রাসের জনক, অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী, অর্থ ও ক্ষমতালোভী ফ্যাসিস্ট ইউনুসের পদত্যাগ, অবৈধ আই.সি.টি আদালতে হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার। সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে ১৩ নভেম্বর ঢাকায় লকডাউন পালন করা হবে। অফিস-আদালত, দোকানপাট, যানবাহন ও কলকারখানা বন্ধ রাখুন। ইউনুসকে পদত্যাগে বাধ্য করুন। আওয়ামী লীগের স্পষ্ট কথা শেখ হাসিনার ক্ষতি হলে সারা বাংলায় আগুন জ্বলবে।

হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের নিশানায় রয়েছেন। তাদের গ্রেফতার করে রাখা রয়েছে বিভিন্ন জেলে। প্রশাসনের এই অতি সক্রিয়তায় অসন্তুষ্ট জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনও। কমিশনের তরফে ইতিমধ্যে ইউনুস সরকারকে একটি কড়া চিঠিও দেওয়া হয়েছে। আর সেই চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে, আওয়ামী লীগের যে সব নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ দিতে না পারলে অবিলম্বে তাদের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথাও। নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠ হয় তার জন্য তদারকি সরকারকে পদক্ষেপ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে আওয়ামী লীগের অংশ গ্রহণ। তদারকি সরকার জানে, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না কোনও আন্তর্জাতিক মহল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচির বিষয়ে সজাগ রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশ। ১৩ নভেম্বর ঢাকাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র। অভিযোগ, ওই দিন রাজধানীতে লকডাউনের নামে নৈরাজ্যের পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। তাদের টার্গেট হাসিনার রায় ঘোষণায় বাধা সৃষ্টি এবং জাতীয় নির্বাচন বানচাল করা। বাংলাদেশ পুলিশের বক্তব্য, ১০ নভেম্বর থেকেই ঢাকার প্রবেশপথ, আবাসিক হোটেল, মেস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি ও বিভিন্ন অভিযান শুরু করবে পুলিশ। এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার ও আটক দেখানো হয়েছে।