এসআইআর আতঙ্কে মৃতের পরিবারের পাশে তৃণমূল।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নতুন কমিটি তৈরি হল তৃণমূলের অন্দরে। এসআইআর আতঙ্কে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। আর্থিক সাহায্য করবে তৃণমূল।

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: এসআইআর আতঙ্কে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা উঠে এসেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বারবার এই অভিযোগও করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই পথে নেমে মিছিল করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে এবার সেই সমস্ত মৃতের পরিবারের পাশে থাকার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করে দিলেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিশেষ কমিটিতে যারা থাকবেন তারা সেই সমস্ত মৃতের পরিবারের সঙ্গে গিয়ে দেখা করবেন ও তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে আর্থিক সাহায্যেরও ব্যবস্থা করবেন।

শনিবার থেকেই কাজে নেমে পড়ছেন এই কমিটিতে থাকা নেতা নেত্রীরা। শনিবার মোট পাঁচজন স্বজনহারা পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তারা। গত মাসের ২৮ তারিখ আগরপাড়ার বাসিন্দা প্রদীপ কর আত্মহত্যা করেন। তার পরিবারের লোকজনেদের সঙ্গে দেখা করতে দৌড়ে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃত প্রদীপ করের কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছিল। সেখান থেকেই জানা যায় যে এসআইআর আতঙ্কে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেখান থেকে স্লোগান তোলেন জাস্টিস ফর প্রদীপ কর। শনিবার প্রদীপ করের বাড়ির লোকেদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন সামিরুল ইসলাম ও ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। শুধু তাই নয়, টিটাগড়ে মৃত কাকলি সরকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। এদিনই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যাচ্ছেন ডানকুনি। ৩ নভেম্বর ডানকুনি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসিনা বেগম আত্মহত্যা করেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। তাই আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। এই এসআইআর আতঙ্গে হুগলি জেলার শেওড়াফুলিতে একটি মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন জয়া দত্ত সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা। এছাড়াও উলুবেড়িয়া যাচ্ছেন অরুপ চক্রবর্তী।

এর আগেও বহুবার এসআইআরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল তৃণমূল। তৃণমূলের তরফে বলাও হয়েছিল যে, এসআইআর-কে অস্ত্র করে বাংলা জুড়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে যদি একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যায় তাহলে একলক্ষ লোক নিয়ে দিল্লিতে আন্দোলন হবে আগামী দিনে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাওয়েরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।