যে আধার কার্ড নিয়ে অতীতে এত আপত্তি ছিল কমিশনের, তা-ই এখন অনলাইন ব্যবস্থার প্রায় প্রতিটি মূল ধাপে কার্যকর রয়েছে।

রিমা দত্ত, সাংবাদিক: চলতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অনলাইন ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর মূল লক্ষ্য, কর্মসূত্রে দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের কাজটা সহজ করে দেওয়া। অথচ বহু মানুষ ইতিমধ্যেই এই সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। সবচেয়ে সমস্যা, আধারের সঙ্গে ভোটার কার্ডের নামের বানানে মিল না থাকলে একাজ করাই মুশকিল। তাই এখন প্রশ্ন উঠছে যাদের জন্য এই ব্যবস্থা, তাঁরা আদৌ-এর সুবিধা পাবেন তো, নাকি বাড়বে ভোগান্তি। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, বেশিরভাগ সমস্যা শীঘ্রই মিটবে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা হওয়ার কারণে নামের বানান মিলের বিষয়টি নিয়ে তাদেরও কিছু করার নেই। প্রসঙ্গত, যে আধার কার্ড নিয়ে অতীতে এত আপত্তি ছিল কমিশনের, তা-ই এখন অনলাইন ব্যবস্থার প্রায় প্রতিটি মূল ধাপে কার্যকর রয়েছে।

কমিশনের পোর্টালে লগ-ইন করলেই সফটওয়্যার জানতে চাইছে ভোটারের ফোন নম্বর ভোটার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে কি না। বাস্তবে বেশিরভাগ মানুষের মোবাইলে নম্বর ভোটার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত নেই। সেক্ষেত্রে ওই পোর্টাল ফর্ম ৮ পূরণ করতে বলছে। ভোটারদের প্রশ্ন, এনুমারেশনের আগে নতুন ফর্মটি ভরলে সময়মতো নিষ্পত্তি হবে তো। তবে কমিশন সূত্রের ব্যাখা, অনলাইন ফর্ম ৮-এ থাকা শুধুমাত্র মোবাইল কারেশন অপশনটি বেছে নিলেই মোবাইল নম্বর সংযুক্ত হবে সঙ্গে সঙ্গে। তখন লগ-আউট করে ফের লগ ইন করলেই বাকি কাজ হবে। আধারের সঙ্গে ভোটার কার্ডের নামের বানান মিলিয়েও দেখতে বলছে সফটওয়্যার। উভয় কার্ডের বানানে মিল না থাকলে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে বুথ লেভেল অফিসারের সঙ্গে। অথচ, অনেকেরই এই দুই কার্ডের নামের বানানে বিস্তর অমিল রয়েছে। কারণ, কার্ড তৈরির সময়ে নামের ইংরেজি বানানের বাংলা রূপটি যান্ত্রিক ভাবে বদলে যায় হামেশাই।

কমিশন সূত্রের বক্তব্য, অনলাইন পদ্ধতিতে কিছু ছাঁকনি রাখতে হয়, ন্যায্য ভোটার বাছাইয়ের স্বার্থে। তাই আধারের সঙ্গে মিল রাখার বিষয়টি সফটওয়্যারে সংযুক্ত রয়েছে। নির্ধারিত সেই ব্যবস্থার বাইরে সফটওয্যার কাজ করবে না। তা এড়ানোও সম্ভব নয়। নামের বানানের অমিলের কারণে অনলাইনে অসুবিধা হলে বিএলও-র মাধ্যমে এনুমারেশন ফর্ম ভর্তি করা যাবে। ফলে বাইরে কার্মরত ব্যক্তি বা পরিযায়ী শ্রমিকদের এতে অসুবিধা বাড়বে বলেই অনেকের মত। প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের সুবিধা কি আদৌ দেওয়া গেল,

কমিশন সূত্রের খবর, ভোটারের হয়ে তাঁর নিকটাত্মীয়ও ফর্ম ভরতে পারেন। কিন্তু যিনি একা অথবা যাঁর নিকটাত্মীয় অসুস্থ বা বৃদ্ধ, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা মেটানোর কী পথ রয়েছে? নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্টদের জন্য প্রতিটি জায়গায় স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত রয়েছেন। তাঁরা সেই সাহায্য করবেন। গত এসআইআর-এর তথ্য ওই সফটওয়্যারে পাওয়া যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট ড্রপ-ডাউন থেকে রাজ্য বিধানসভা, পার্ট বা সিরিয়াল নম্বর ইত্যাদি পূর্ণ করেও সফটওয়্যার জানাচ্ছে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আগের এই তথ্যগুলি কারও মনে না থাকলে সফটওয়্যারে তা খুঁজে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ভোটারের দেওয়া ফোন নম্বরে এককালীন পাসওয়ার্ড আসতে বিস্তর দেরি হওয়ায় লগ-ইনের সময় যাচ্ছে পেরিয়ে। তবে, এই সমস্যা দ্রুত মিটে যাবে। সফটওয়্যারে যুক্ত গত এসআইআর-এর তথ্য প্রতিফলিত হচ্ছে না। যান্ত্রিক এই খামতি দূর করার কাজ চলছে বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের।