“২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্রদের বিক্ষোভ-আন্দোলনের পিছনে আমেরিকার হাত ছিল। মার্কিন সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। “
শুভাশিস দাস, সাংবাদিক: জুলাই বিপ্লবে নির্বিচার হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বেশির ভাগই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যান। তারপর বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশজুড়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের প্রাক্তন মন্ত্রী, সাংসদ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়েরের উৎসব শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও হচ্ছে একাধিক মামলা। কোনো কোনো মামলায় আসামীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন এবং হাসিনা সরকারের পতনে তাদের কোনও ভূমিকা নেই বলেই দাবি করে এসেছে আমেরিকা। তবে বাংলাদেশের তথাকথিত আন্দোলন নিয়ে শেখ হাসিনাও বারবার অভিযোগ করেছিলেন আমেরিকার দিকে। সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড চেয়েছিল আমেরিকা। সেই প্রস্তাবে হাসিনা রাজি না হওয়াতেই ষড়যন্ত্র করে তাঁর সরকার ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রধান। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস বাংলাদেশকে আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন হাসিনা। গেটস ফাউন্ডেশনে গিয়ে ইউনুস বলেছিলেন, হাসিনার সরকারের পতনের নেপথ্যে আসল মাথা নাহিদ ইসলাম। ছাত্রনেতাকেই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছিলেন ইউনূস। তবে আওয়ামী লিগের নেতারা সেটা বলছেন না, বা মানেন না। নাহিদ তাঁদের চোখে অণুঘটক। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে সরানোর আসল খেলা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসে। আর তার নেপথ্যে স্বয়ং মহম্মদ ইউনুস।
এবার বাংলাদেশের সেই জুলাই ছাত্র গণ আন্দোলন নিয়ে কার্যত বোমা ফাটালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। রুশ সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহিবুল বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্রদের বিক্ষোভ-আন্দোলনের পিছনে আমেরিকার হাত ছিল। মার্কিন সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। ইউনুসকে ডেঞ্জারাস ম্যান বলে উল্লেখ করে মহিবুল হাসান চৌধুরী জানান, ক্লিন্টন পরিবার ও ইউনুস সরকারের মধ্যে গোপন আঁতাত দীর্ঘদিনের। বহু বছর ধরেই তারা সরকার বদল করার চেষ্টা করছিল। আগে বিষয়টা প্রকাশ্যে ছিল না, কিন্তু এনজিওগুলোর ফান্ডিং চলছিল। ওরা বাংলাদেশের সরকার বদলে মরিয়া ছিল। বাংলাদেশে সরকার বদলাতে উঠে পড়ে লেগেছিল প্রতিটা মানুষকে টাকা খাইয়ে।

প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান আরো জানান, হিলারি ক্লিনটনের পরিবার ইউনুসের সঙ্গে একটি নেক্সাস তৈরি করেছিল। তারা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, গায়ক, মৌলবাদীদের থেকে শুরু করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের বিপুল টাকা দিয়েছিল জুলাই আন্দোলনে ইন্ধন দিতে এবং হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে। কিছু এনজিও, বিশেষ করে আমেরিকার, USAID-র মতো, এরা ২০১৮ সাল থেকে আওয়ামী লিগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছিল। টাকা দিয়ে পরিকল্পনা মাফিক এই অশান্তির ছক কষা হয়েছিল, যা জুলাই-অগস্ট মাসে দাঙ্গার রূপ নেয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রজনতার নেতৃত্বে যতগুলো আন্দোলন হয়েছে তার মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলন অন্যতম। অকুতোভয় রাষ্ট্রের প্রতীক হয়ে উঠেন রংপুরের আবু সাঈদ। পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু একতাবদ্ধ করে গোটা দেশকে। তারপরই কঠোর রূপ নেয় কোটা আন্দোলন। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ছাত্রলীগের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই শিক্ষার্থীরা ঘুরে দাঁড়ায়। সারাদেশ থেকে আসে ৬ জনের মৃত্যুর সংবাদ। বন্ধ হয়ে যায় সব বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। ন্যায় অধিকার আদায়ে জুলাইয়ের কোটা আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।

এদিকে বর্তমান বাংলাদেশে গণভোট প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াতসহ তাদের সমমনস্ক দলগুলোর অবস্থান ঠিক বিপরীত। জামায়াতের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। আর বিএনপি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে চায়। সরকার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পক্ষে। নিজেদের মধ্যে এই আঁকচাআঁকচির মাঝে রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝড় তুললেন শেখ হাসিনার প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।